ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেলেন সুদীপ, রাজনৈতিক মহলে শুরু নতুন জল্পনা!

ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেলেন সুদীপ, রাজনৈতিক মহলে শুরু নতুন জল্পনা!

দিল্লির রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার সৃষ্টি করে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিক্ষুব্ধ লোকসভা সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। এই দলবদলের পরপরই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের নিরাপত্তা জোরদার করা শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কলকাতা উত্তরের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ওয়াই’ (Y) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বলয়ে আনা হয়েছে। একই সাথে বাকি ১৯ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদের নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে হাওড়ায় অবস্থিত এনসিপিআই-এর রাজ্য দপ্তরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষ কেন্দ্রীয় বাহিনী।

সংসদে বাংলার সমীকরণ ও নতুন শক্তির উত্থান

দলবদলের পর এনসিপিআই তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে নিজেদেরকে সংসদে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে দাবি করেছে। প্রকাশিত গ্রাফিক্স অনুযায়ী, বর্তমানে লোকসভায় বাংলার আসন বিন্যাসে এনসিপিআই-এর সাংসদ সংখ্যা ২০ জন, বিজেপির ১২ জন, তৃণমূলের কমে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে এবং কংগ্রেসের রয়েছেন ১ জন সাংসদ। দলটির পক্ষ থেকে বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভার দলনেতা হিসেবে শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সেই পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত এই দলটির মূল লক্ষ্য হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা।

তৃণমূল ভাঙনের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

তৃণমূল কংগ্রেসের এই বৃহৎ সাংসদ অংশের বিদ্রোহ এবং নতুন দলে যোগদানের পেছনে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও নেতৃত্বের সাথে কৌশলগত দূরত্ব তৈরি হওয়াকে অন্যতম প্রধান কারণ মনে করা হচ্ছে। বিক্ষুব্ধরা পুরনো দলীয় পথ পরিহার করে এনসিপিআই-কে বেছে নিলেও তারা মূলত বিজেপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বা এনডিএ-কেই সমর্থন করতে চলেছেন। এর ফলে আগামী দিনে লোকসভায় বিরোধী শিবিরের শক্তি যেমন হ্রাস পাবে, তেমনি রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক একাধিপত্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচন এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এই নতুন জোট সমীকরণ দিল্লির দরবারে বাংলার কণ্ঠস্বরের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *