নেপালে উদ্ধার রোশনের ভাইয়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ, খুনের অভিযোগে কাঠগড়ায় খান স্যার!

পাটনার জনপ্রিয় শিক্ষক খান স্যারের সঙ্গে জ্ঞানবিন্দু অ্যাকাডেমির প্রধান রোশন আনন্দের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এবার চরম আকার ধারণ করল। নেপালের বিরাটনগর থেকে রোশনের ভাই প্রিন্স যাদবের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের চোখের উপর এবং শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় এই মৃত্যুকে ঘিরে ঘনীভূত হয়েছে রহস্য। বর্তমানে জেলবন্দি থাকা রোশন আনন্দের বিস্ফোরক অভিযোগ, তাঁর ভাই প্রিন্সকে পরিকল্পিতভাবে খুন করিয়েছেন স্বয়ং খান স্যার। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই পাটনা পুলিশ নেপাল পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে তদন্তকারী দল।
কোচিং সেন্টারের দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সম্ভাব্য প্রভাব
পাটনার বুকে খান স্যার এবং রোশন স্যারের কোচিং সেন্টারের মধ্যে ব্যবসায়িক সংঘাত ও রেষারেষি গত পাঁচ-ছয় বছর ধরেই চলছে। জানা যায়, ২০২১ সালেও খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলার নেপথ্যে অভিযোগ উঠেছিল এই প্রিন্সের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি গত ২ জুন মুসসলপুরে খান গ্লোবাল স্টুডিওয় পুনরায় ভাঙচুর এবং গুলি চালনার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় এক নিরাপত্তারক্ষী আহত হওয়ার পর ব্যাপক ছাত্রবিক্ষোভ দেখা দেয় এবং পুলিশ রোশন আনন্দকে গ্রেপ্তার করে। এই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন প্রিন্সও।
হামলার ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ৩ জুন ছয় বন্ধুর সঙ্গে নেপালে যান প্রিন্স। নেপালের একটি হোটেলে থাকার সময় শনিবার রাতে আচমকাই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শরীরে আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন এবং দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের পুরনো শত্রুতার জেরে এই মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এই ঘটনার ফলে পাটনার শিক্ষামহলে এবং দুই পক্ষের হাজার হাজার পড়ুয়াদের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের অশান্তি ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।