রাহুলের ঐক্যের বার্তার জবাবে তীব্র আক্রমণ ডিএমকের, লোকসভা ভোটের মুখে বড়সড় ফাটলের মুখে ইন্ডিয়া জোট

রাহুলের ঐক্যের বার্তার জবাবে তীব্র আক্রমণ ডিএমকের, লোকসভা ভোটের মুখে বড়সড় ফাটলের মুখে ইন্ডিয়া জোট

নয়াদিল্লির বৈঠকে দেওয়া কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর ‘ঐক্যবদ্ধ’ করার বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ সহযোগী দল ডিএমকের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ল হাত শিবির। জোটের অন্দরে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক ‘ফাটল’ এবং তিক্ততার জন্য সরাসরি রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের নীতিকে দায়ী করেছে তামিলনাড়ুর শাসক দল। ডিএমকের মুখপত্র ‘মুরাসোলি’র সম্পাদকীয়তে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটে আসলে বিষ ঢেলেছে কে? লোকসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে জোটে এমন ফাটল বিরোধী শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

গত ৮ জুন নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা বৈঠকে রাহুল গান্ধী বিজেপির বিরুদ্ধে সমস্ত বিরোধী দলকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বৈঠকে তিনি মন্তব্য করেন, ভালোবাসা ও স্নেহের মাধ্যমে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই কংগ্রেসের মূল কাজ। একই সাথে শিবের বিষপানের পৌরাণিক কাহিনি টেনে তিনি বলেন, ভগবান শিবের মতোই কংগ্রেসকেও সহযোগীদের সমস্ত সমালোচনা ও বিষ হজম করে এগোতে হবে। রাহুলের এই ‘বিষপান’ তত্ত্বকেই এবার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হাতিয়ার করেছে ডিএমকে।

সমুদ্র মন্থন ও বিষের উৎপত্তি

ডিএমকের মুখপত্র ‘মুরাসোলি’র সম্পাদকীয়তে রাহুলের শিব-তত্ত্বের পাল্টা দিয়ে বলা হয়েছে, পৌরাণিক কাহিনিতে শিব নিজে বিষ তৈরি করেননি। অমৃতের সন্ধানে দেব ও অসুরদের সমুদ্র মন্থনের সময় সেই বিষের উৎপত্তি হয়েছিল এবং বিশ্বকে রক্ষা করতে শিব তা পান করেছিলেন। এই প্রসঙ্গ টেনেই কংগ্রেসের দিকে সরাসরি আঙুল তুলে প্রশ্ন করা হয়েছে, ‘ইন্ডিয়া’ জোট যদি অমৃতের বদলে বিষই উৎপাদন করে থাকে, তবে শুরুতেই তা মন্থন করার জন্য দায়ী কে ছিল? মুখপত্রের দাবি, বিরোধী শিবিরের প্রধান শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক কংগ্রেস নিজেই নষ্ট করেছে এবং একের পর এক রাজ্যে বিরোধী ঐক্য ভেঙে যাওয়ার পেছনে মূল কারিগর হাত শিবির নিজেই।

দেরিতে জাগরণ ও জোটের ভবিষ্যৎ

ডিএমকের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাহুলের ঐক্যের ডাক অনেক দেরিতে এসেছে এবং তা শরিক দলগুলোর ক্ষোভ প্রশমন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আঞ্চলিক দলগুলোর অভিযোগ, কংগ্রেস বড় দাদার সুলভ আচরণ করতে গিয়ে অনেক রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলোর রাজনৈতিক জমি ও গুরুত্বকে খাটো করেছে, যার ফলে জোটের অন্দরে এই পারস্পরিক অবিশ্বাস ও বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিএমকের মতো অন্যতম শক্তিশালী দক্ষিণী শরিকের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি চলতে থাকলে, মোদী বিরোধী জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা আমজনতার কাছে সংকটে পড়বে এবং এর সরাসরি সুবিধা চলে যাবে বিজেপি শিবিরের ঘরে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *