কলকাতা পুরভোটের আগেই কি আসন পুনর্বিন্যাস, নবান্নের নতুন সমীকরণে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে, অর্থাৎ আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই কলকাতায় নতুন পুরবোর্ড গঠন করার ডেডলাইন ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার কলকাতা পুরসভায় আয়োজিত একটি বিশেষ স্বচ্ছতা বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি এই বড় ঘোষণা করেন। তবে কেবল নির্বাচনের দিনক্ষণই নয়, নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত করতে মহানগরের ওয়ার্ড বা আসন পুনর্বিন্যাসের (ডিলিমিটেশন) ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আসন পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা ও কারণ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কলকাতায় নাগরিক পরিষেবার ভারসাম্য বজায় রাখতে আসন পুনর্বিন্যাস অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। মহানগরের বর্তমান পরিকাঠামোয় দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো ওয়ার্ডে জনসংখ্যার চাপ মারাত্মক বেশি, আবার কোনো কোনো ওয়ার্ডে জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। এই অসঙ্গতি দূর না করলে প্রতিটি নাগরিকের কাছে সমানভাবে পুর পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। এই লক্ষ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ডিলিমিটেশন বা ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সরকারি বিভাগ এবং পুর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ব্যাপক ভাঙন ও ডামাডোল দেখা দিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগের জেরে বহু পুরসভা ভেঙে গিয়ে সেখানে প্রশাসক বসানো হয়েছে। সেই একই আবহে কলকাতা পুরসভার বোর্ডও ভেঙে যায় এবং বর্তমানে সেখানে প্রশাসকের মাধ্যমে কাজ চালানো হচ্ছে। ২০২১ সালের পর এই প্রথম কলকাতার রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন পুনর্বিন্যাসের এই সিদ্ধান্ত কলকাতার নির্বাচনী মানচিত্রে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়ার্ডের সীমানা এবং জনসংখ্যার অনুপাত বদলে গেলে রাজনৈতিক দলগুলোর চেনা ভোটব্যাংক ও রণকৌশল ওলটপালট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি, পূর্বতন পুরবোর্ডের কাজের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও এদিন সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আসন পুনর্বিন্যাস এবং দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহানগরে একটি স্বচ্ছ ও গতিশীল পুরবোর্ড গঠন করাই এখন নবান্নের প্রধান লক্ষ্য।