অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে মানতে হবে কঠিন শর্ত, কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী!
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
রাজ্যজুড়ে বর্তমানে অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের ভাতার পরিমাণ যেমন দ্বিগুণ করা হয়েছে, তেমনই আবেদন প্রক্রিয়া ও যাচাইকরণের নিয়মে আনা হয়েছে ব্যাপক কড়াকড়ি। ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজন করা হচ্ছে। এই শিবিরের প্রথম দিনে পূর্ব মেদিনীপুরের রেয়াপাড়ায় উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে এক বড়সড় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তথ্য ও নথি পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখেই কেবল প্রকৃত প্রাপকদের হাতে এই সুবিধা তুলে দেওয়া হবে বলে তিনি সাফ জানিয়েছেন।
কারা পাবেন না প্রকল্পের সুবিধা?
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সব আবেদনকারী সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা করবেন না, তাঁরা এই আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। বিশেষ করে যেসব পরিবার সন্তানদের প্রয়োজনীয় টিকাকরণ করায়নি কিংবা সন্তানদের সরকারি বা সরকার পোষিত বিদ্যালয়ে পড়ান না, তাঁদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে না। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মূল কারণ হলো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর অপব্যবহার রোধ করা এবং নাগরিকদের মধ্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে একদিকে যেমন প্রকৃত দুস্থ মহিলারা লাভবান হবেন, অন্যদিকে সরকারি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের দায়বদ্ধতা আরও বাড়বে।
যৌথ পরিবারের নিয়ম ও ফর্ম বিতর্ক
এই প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী মূলত একক পরিবারই আবেদনের যোগ্য। তবে যৌথ পরিবারের জটিলতা কাটাতে নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, যদি কোনো পরিবারে একাধিক বিবাহিত দম্পতি থাকেন এবং তাঁদের পৃথক রেশন ও আধার কার্ড থাকে, তবে তাঁদের আলাদা পরিবার হিসেবে গণ্য করা হবে। সেক্ষেত্রে উভয় পরিবারের নারী প্রধানরাই আলাদাভাবে আবেদন করে আর্থিক সুবিধা পেতে পারবেন। অন্যদিকে যোজনার ১২ পাতার দীর্ঘ ফর্ম পূরণ করা নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, এই দীর্ঘ ফর্ম মূলত ভবিষ্যতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। আবেদনকারীরা অফলাইনের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট অফিশিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে এই যোজনার জন্য আবেদন করতে পারছেন।