অন্নপূর্ণা যোজনার পর এবার যুবশক্তি ও বার্ধক্য ভাতার অপেক্ষা ফুরোচ্ছে রাজ্যে

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে তৎপর নতুন সরকার। ইতিমধ্যেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ বা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে শুরু করেছেন রাজ্যের ৭৯ লক্ষ মহিলা। তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের অর্থ পৌঁছে যাওয়ার পর থেকেই এখন সাধারণ মানুষের নজর বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং যুবশক্তির মতো প্রকল্পগুলির দিকে। এই আবহে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তিন দিনের বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’। গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরসভা ও পুরনিগম এলাকার প্রায় ১১০০টি স্থানে আয়োজিত এই শিবির থেকে সরকারের ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
ভাতা চালুর রূপরেখা ও মন্ত্রীদের বার্তা
অন্নপূর্ণা যোজনার সফল সূচনার পর অন্যান্য সামাজিক ভাতা চালুর বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই রাজ্যে বার্ধক্য এবং বিধবা ভাতা দেওয়া শুরু হবে। পাশাপাশি যুবকদের জন্য প্রতিশ্রুত ভাতা চালুর লক্ষ্যে বর্তমানে সমীক্ষার কাজ চলছে। অন্যদিকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনা দিয়ে প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা বাড়ানোর সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও মালদা থেকে নিশ্চিত করেছেন যে, বার্ধক্য ভাতা ও যুবশক্তি প্রকল্প নিয়ে কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে এবং খুব শীঘ্রই বেকার ভাতা চালু হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, চলতি মাস বা আগামী মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পগুলির সুবিধা মিলতে শুরু করতে পারে।
ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, নতুন সরকার সামাজিক সুরক্ষামূলক প্রকল্পগুলিতে ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে চলেছে। পূর্ববর্তী সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে যেখানে মাসিক দেড় হাজার টাকা দেওয়া হতো, সেখানে নতুন সরকারের ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। এর পাশাপাশি সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য চাকরিপ্রার্থীদের এককালীন ১৫,০০০ টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের অর্থনৈতিক চাপ অনেকটাই লাঘব করবে। বয়স্ক ও স্বনির্ভরতাহীন নাগরিকদের জন্য বার্ধক্য ও বিধবা ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করে মাসিক ২,০০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তারা ৬০ বছর বয়স পার হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্ধক্য ভাতার আওতায় চলে আসবেন।
প্রশাসনিক এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে দ্বিগুণ হারে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা প্রদান এবং যুবকদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের জোগান বাড়াবে। তবে এই বিশাল অর্থনৈতিক দায়ভার রাজ্যের রাজকোষের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শতভাগ সুবিধাভোগীর কাছে এই অর্থ পৌঁছায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।