ভারতের ৬ ‘ব্রহ্মাস্ত্র’! সীমান্তে হাই-অ্যালার্টের মাঝেই মোতায়েন হচ্ছে আধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম

নয়াদিল্লি: ভারতের জাতীয় সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্র সরকার এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর সতর্কবার্তা জারি করেছে। বিশ্বের বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকের সামুদ্রিক সুরক্ষা শাখা (maritime security wing) দেশের স্থল এবং সমুদ্র সীমান্তের কাছাকাছি থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ঘাঁটিগুলিতে ড্রোন হামলার (Drone Attack) বিষয়ে একটি বড়সড় অ্যালার্ট জারি করেছে। শত্রুপক্ষের বিপজ্জনক ড্রোন যাতে দেশের জরুরি পরিকাঠামো স্তব্ধ না করতে পারে, তার জন্য সমস্ত নিরাপত্তা সংস্থাকে দ্রুত সীমান্তে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আকাশপথের এই বড় বিপদ সামলাতে ভারত ইতিমধ্যেই তার সীমান্ত এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম মোতায়েন করার কাজ শুরু করে দিয়েছে।
শত্রুর উড়ন্ত ঘাতককে আকাশেই শেষ করবে ভারতের ৬ ‘সুরক্ষা কবচ’:
১. ডি-৪ অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম (DRDO): এটি ৩ থেকে ৫ কিমি দূর থেকেই ড্রোন চিহ্নিত করে তার জিপিএস (GPS) এবং কমিউনিকেশন লিঙ্ক পুরোপুরি জ্যাম করে দিতে পারে। এটি লালকেল্লা ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাতেও মোতায়েন রয়েছে।
২. আকাশতীর কাউন্টার-ইউএএস সিস্টেম: ভারতীয় সেনার এই নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমটির নজরদারির রেঞ্জ প্রায় ১৫ কিমি। এটি ড্রোন ও মিসাইলকে রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করতে সক্ষম।
৩. ভার্গবস্ত্র মাইক্রো-ミスাইল সিস্টেম: ২.৫ কিমি রেঞ্জের এই সিস্টেমটি ‘হার্ড-কিল’ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি একসঙ্গে শত্রুর ড্রোনের ঝাঁককে (swarm) ধ্বংস করতে পারে।
৪. জেন অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম: AI-ভিত্তিক ডিটেকশন প্রযুক্তি এবং RF জ্যামার সমৃদ্ধ এই সিস্টেমটির কার্যক্ষমতা ৪ থেকে ৮ কিমি পর্যন্ত।
৫. বিইএল কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম: প্রায় ১০ কিমি রেঞ্জের এই রাডার-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থাটি সংবেদনশীল পরিকাঠামোর সুরক্ষায় জ্যামিং করতে পারদর্শী।
৬. বস্ত্র সেন্টিনেল অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম: এর শনাক্তকরণের রেঞ্জ ১০ কিমি-র বেশি। AI প্রযুক্তির সাহায্যে এটি ড্রোনের ঝাঁককে ট্র্যাক ও মনিটর করতে পারে।
পাঞ্জাব সীমান্তে ট্রায়াল শুরু, দেশের প্রথম কোন বন্দরে বসল এই সিস্টেম?
আকাশপথে শত্রুর এই অনুপ্রবেশ রুখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-এর অধীনে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির তত্ত্বাবধানে পাঞ্জাবের পাক-সীমান্ত সংলগ্ন সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে ইতিমধ্যেই এই অত্যাধুনিক সিস্টেমগুলির ফিল্ড ট্রায়াল শুরু হয়ে গিয়েছে।
এর পাশাপাশি, দেশের সামুদ্রিক সীমান্ত সুরক্ষিত করতে তামিলনাড়ুর থুথুকুড়িতে অবস্থিত ভি.ও. চিদাম্বরানার পোর্ট দেশের প্রথম বন্দর হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেছে, যেখানে এই সুরক্ষা কবচ বসানো হয়েছে। ‘সেন্ট্রাল ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড’-এর সঙ্গে চুক্তি করে এই বন্দরে ৩৬০-ডিগ্রি নজরদারিসম্পন্ন অ্যাডভান্সড অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম অ্যাক্টিভেট করা হয়েছে। সরকারের ‘অমৃত কাল ভিশন ২০৪৭’ এবং ‘মেরিটাইম ইন্ডিয়া ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে দেশের আকাশ ও সামুদ্রিক পথকে দুর্ভেদ্য করে তুলতেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।