মাঝরাতে মল্লিকপুর স্টেশনে রেলের বুলডোজার! ডেডলাইনের আগেই হকার উচ্ছেদে ধুন্ধুমার

মাঝরাতে মল্লিকপুর স্টেশনে রেলের বুলডোজার! ডেডলাইনের আগেই হকার উচ্ছেদে ধুন্ধুমার

মল্লিকপুর: যাদবপুরের পর এবার মল্লিকপুর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার মল্লিকপুর স্টেশন চত্বরে সোমবার গভীর রাতে বুলডোজার চালিয়ে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। রেলের এই আকস্মিক অভিযানের প্রতিবাদে স্টেশন চত্বরেই হকার এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

रेल সূত্রে খবর, স্টেশন চত্বরের হকারদের সরে যাওয়ার জন্য আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সেই নোটিসে ১৭ জুনের মধ্যে দোকান তুলে নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় হকারদের অভিযোগ, রেলের দেওয়া সেই ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগেই, সোমবার মাঝরাতে আচমকা বুলডোজার নিয়ে হাজির হয় আরপিএফ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বারুইপুর থানার পুলিশ।

বুলডোজারের সামনে শুয়ে মহিলাদের বিক্ষোভ:

মাঝরাতে উচ্ছেদের খবর ছড়াতেই স্টেশন চত্বরে ছুটে আসেন হকার ও তাঁদের পরিবারের মানুষজন। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ধরে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উচ্ছেদ রুখতে বেশ কয়েকজন মহিলা সরাসরি বুলডোজারের সামনে বসে পড়েন। তবে শেষরক্ষা হয়নি। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে জোরকদমে বুলডোজার চালায় এবং নিমেষের মধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্টেশন চত্বরের একাধিক দোকানপাট।

আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি বিরোধী শিবিরের:

খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান সিপিআইএম নেতা লাহেক আলি। রাজ্য সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “সরকার বলেছিল ভরসা ‘ইন’ ভয় ‘আউট’। কিন্তু এখন ভরসা ‘আউট’ আর ভয় ‘ইন’ হয়ে গিয়েছে। রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই, তার ওপর বিকল্প ব্যবস্থা না করে লক্ষ লক্ষ হকারের জীবন ধ্বংস করা হচ্ছে।” উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের দাবি জানানোর পাশাপাশি এই ঘটনার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হাইকোর্টের আইনজীবী আয়েশা নাজরিনও রেলের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিকল্প ব্যবস্থা না করে এভাবে দোকান উচ্ছেদ করলে পরিবারগুলো ভেসে যাবে। প্রয়োজনে আমি বিনা পারিশ্রমিকে হকারদের হয়ে হাইকোর্টে এই মামলা লড়ব।” সব মিলিয়ে, সময়সীমা ফুরনোর আগেই এই মধ্যরাতের উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে মল্লিকপুরে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *