লুপ্তপ্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো পুথি! বালুরঘাটে ইতিহাস বাঁচাতে রাজকীয় উদ্যোগ প্রশাসনের
বালুরঘাট: কালভেদে হারিয়ে যেতে বসা জেলার প্রাচীন ইতিহাস ও দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপিকে চিরতরে বাঁচিয়ে রাখতে এক অনন্য উদ্যোগ নিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের দেশব্যাপী ‘জ্ঞান ভারতম মিশন’ প্রকল্পের আওতায় এবার আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঐতিহাসিক নথি ও পুথি সংরক্ষণের কাজ শুরু হলো এই জেলায়। কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির পথ অনুসরণ করেই জেলাজুড়ে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন।
ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন ইতিহাসপ্রেমী মানুষ, ঐতিহ্যবাহী পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তালপাতা ও প্রাচীন কাগজে লেখা একাধিক অমূল্য পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করা হয়েছে। বালুরঘাট কলেজেও এমন বেশ কিছু পুথি রয়েছে, যার কয়েকটির ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
উদ্ধার ৪০০ বছরের পুরোনো পুথি, মিলল ‘পদ্মামঙ্গল’-এর সন্ধান:
প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলা থেকে এখনও পর্যন্ত ‘পদ্মামঙ্গল’, ‘শ্রী শ্রীকৃষ্ণ সহস্র নামস্তোত্র’ এবং রাসকেলির শ্রীকৃষ্ণলীলা বিষয়ক প্রাচীন পুথির সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে জগজ্জীবন ঘোষালের ‘পদ্মামঙ্গল’-এ মনসার মাহাত্ম্যের পাশাপাশি প্রাচীন দিনাজপুরের কুটির শিল্প, কৃষিজাত পণ্য ও ধোকড়া শিল্পের নানা ঐতিহাসিক বিবরণ রয়েছে। অন্যদিকে, তুলোট কাগজে লেখা রাসকেলির শ্রীকৃষ্ণলীলা বিষয়ক পুথিটি প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে জেলার বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ, অধ্যাপক, গবেষক ও নামী ইতিহাসবিদদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা জেলার আনাচে-কানাচে ঘুরে প্রাচীন নথির সন্ধান চালাচ্ছেন।
পাণ্ডুলিপি থাকবে আপনার কাছেই, শুধু ডিজিটাল রূপ নেবে প্রশাসন:
দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বালা সুব্রহ্মণ্যম টি জেলার সাধারণ মানুষের কাছে একটি বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কারও ব্যক্তিগত সংগ্রহে এই ধরনের কোনও প্রাচীন নথি বা পাণ্ডুলিপি থাকলে দয়া করে প্রশাসনকে জানান। মূল পুথিটি কিন্তু মালিকের কাছেই সযত্নে ফেরত থাকবে, প্রশাসন কেবল সেটির তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাক-আপ করে রাখবে।” এর ফলে দেশ-বিদেশের গবেষক, পড়ুয়া এবং সাধারণ মানুষ এক ক্লিকেই জেলার সমৃদ্ধ ইতিহাসের খোঁজ পেয়ে যাবেন।
এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বালুরঘাটের বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ সমিত ঘোষ বলেন, “ইতিহাসের নিরিখে এই পাণ্ডুলিপিগুলির গুরুত্ব অপরিসীম। আমার নিজের সংগ্রহে থাকা সংস্কৃত ভাষার একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপিও আমি প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছি। এই কাজ সফল হলে আগামী প্রজন্ম নিজেদের আসল শিকড় ও সংস্কৃতিকে চিনতে পারবে।”