তীব্র বিতর্কের জেরে পিছু হটল NCERT! সিন্ধু সভ্যতার নৃত্যরত নারীমূর্তির পোশাকে বদল নয়, ফিরছে আগের ছবিই

নয়াদিল্লি: সিন্ধু সভ্যতার ঐতিহ্যবাহী নৃত্যরত অনাবৃতা নারীমূর্তির (Dancing Girl) ছবি বিকৃতির অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের পর অবশেষে পিছু হটতে বাধ্য হলো ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)। সোমবার দিনভর তুমুল সমালোচনার পর এই স্বশাসিত সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নবম শ্রেণির ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে ওই ঐতিহাসিক মূর্তির ছবিতে কোনও বদল করা হচ্ছে না। আগের চেনা রূপেই রাখা হবে ছবিটিকে।
সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া ‘মধুরিমা’ নামের ইতিহাস বইটিতে দেখা গিয়েছিল, মূল মূর্তির নগ্ন ঊর্ধ্বাঙ্গ কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ইতিহাসের এত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাচীন একটি নিদর্শনকে এভাবে বিকৃত করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষামহলে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। এনসিইআরটি-র প্রাক্তন কর্তা মাইকেল ড্যানিনো দাবি করেছিলেন, ছোট বাচ্চাদের এমন ‘নগ্ন’ ছবি দেখানো উচিত নয়। যদিও বিতর্কের মুখে এনসিইআরটি-র অধিকর্তা দীনেশ সাকলানি দায় এড়িয়ে বলেন, “এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনও কারণ আছে বলে আমার মনে হয় না।”
শিক্ষা মন্ত্রকের হস্তক্ষেপ ও NCERT-র সিদ্ধান্তবদল:
বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে পৌঁছালে নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। এনসিইআরটি-র কাছে এই বিষয়ে দ্রুত রিপোর্ট তলব করার পাশাপাশি সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। বিষয়টি কলা বিভাগ এবং টেক্সটবুক কমিটির কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হলে, আগের ছবি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনসিইআরটি জানিয়েছে যে তাদের ডিজিটাল বা অনলাইন পাঠ্যবইয়ে অবিলম্বে মূর্তির আগের আসল ছবিটি ফিরিয়ে আনা হবে। তবে ইতিমধ্যেই যে বইগুলো ছাপা হয়ে গেছে, সেগুলির ক্ষেত্রে আগামী শিক্ষাবর্ষের নতুন মুদ্রণ থেকে এই সংশোধনী কার্যকর করা হবে। ফলে ইতিহাসের ওপর ‘আধুনিকতার প্রলেপ’ দেওয়ার চেষ্টা রুখে দিয়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হঠতেই হলো এনসিইআরটি-কে।