ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর মিলবে না কাশির সিরাপ! বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

সাধারণ মানুষের জন্য কাশির সিরাপ ও সর্দি-জ্বরের ওষুধ কেনার নিয়মে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে ডাক্তারের লিখিত প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনও ফার্মেসি বা ওষুধের দোকান থেকে কোনও ধরণের সিরাপ কেনা যাবে না। কাশির সিরাপের অপব্যবহার রুখতে এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক এই বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। গত ৯ জুন ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।
১৯৪৫ সালের ড্রাগস নিয়মে বড় সংশোধন ও কড়াকড়ি
নতুন নির্দেশিকায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ১৯৪৫ সালের পুরনো ঔষধ বিধিমালায় (Drugs Rules, 1945) এক বড়সড় সংশোধন এনেছে। আগে এই আইনের অধীনে কিছু সাধারণ সিরাপ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওটিসি (OTC) প্রোডাক্ট হিসেবে কিনতে পাওয়া যেত। এবার সেই তালিকায় আমূল বদল ঘটানো হয়েছে।
নতুন নিয়মের মূল দিকগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
- তফসিল থেকে ‘সিরাপ’ বাদ: সরকার ১৯৪৫ সালের ঔষধ বিধিমালার তফসিল ‘ক’ (Schedule K) থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটি পাকাপাকিভাবে বাদ দিয়েছে।
- ছোট গ্রামেও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক: এতদিন পর্যন্ত ১,০০০-এর কম জনসংখ্যাবিশিষ্ট ছোট ছোট গ্রামীণ এলাকায় কাশির সিরাপ বিক্রির ক্ষেত্রে লাইসেন্সের নিয়মে কিছু ছাড় দেওয়া হতো। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দেশের প্রত্যন্ত বা ছোট গ্রামেও লাইসেন্স ছাড়া কোনও কাশির সিরাপ বিক্রি বা বিতরণ করা যাবে না।
- নির্দিষ্ট আইনের অধীনেই বিক্রি: এখন থেকে যেকোনো ধরণের কাশির বা সর্দির সিরাপ শুধুমাত্র ১৯৪০ সালের ঔষধ ও প্রসাধনী আইন (Drugs and Cosmetics Act, 1940) এবং তার সংশ্লিষ্ট প্রবিধানের অধীনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসির মাধ্যমেই বিক্রি করা যাবে।
ওষুধের অপব্যবহার রোধ ও জনস্বার্থ রক্ষা
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, কাশির সিরাপের যথেচ্ছ ব্যবহার ও কালোবাজারি বন্ধ করাই এই কঠোর পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। বহু ক্ষেত্রে কাশির সিরাপকে এক শ্রেণীর মানুষ নেশার সামগ্রী বা বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে:
- কাশির সিরাপের বিক্রয় এবং বণ্টনের ওপর ড্রাগ কন্ট্রোল ও প্রশাসন আরও কড়া নজরদারি চালাতে পারবে।
- বাজারে ওষুধের আরও দায়িত্বশীল ও মানসম্মত বিক্রয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রকের তরফে দেশের সমস্ত কাশির সিরাপ প্রস্তুতকারক সংস্থা, পাইকারি পরিবেশক এবং খুচরো ফার্মাসিস্টদের এই সমস্ত নতুন লাইসেন্সিং ও নিয়ন্ত্রক নিয়মকানুন অত্যন্ত কঠোরভাবে মেনে চলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।