কলিযুগের ছেলের হাড়হিম করা কাণ্ড! বাবার বুকে পরপর গুলি

পিতার কাঁধে পুত্রের শববাহী খাট— এই চিরন্তন নিয়মের ঠিক উল্টো এবং হাড়হিম করা এক নির্মম ঘটনার সাক্ষী হলো উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বী জেলা। কাজে যাওয়ার পথে বাবার মোটরসাইকেল মাঝরাস্তায় থামিয়ে, তাঁর বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে পরপর দু’বার গুলি করে খুন করল নিজের জন্মদাতা সন্তান। সোমবার কৌশাম্বীর মঞ্জনপুর শহরের কাছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত ব্যক্তির নাম রামনারেশ কোরি (৪৮)। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত ছেলে রাহুল এলাকা ছেড়ে পলাতক।
মাঝরাস্তায় বাইক থামিয়ে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত রামনারেশ কোরি কৌশাম্বীর নারা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (DM) কার্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সোমবার তিনি নিজের বাইকে করে ছেলে রাহুলকে সাথে নিয়ে মঞ্জনপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। বাইকটি চালাচ্ছিলেন রামনারেশ নিজেই।
ঘটনার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
- বাইক থামানোর ছক: মঞ্জনপুর শহরের বিপি পাবলিক স্কুলের কাছে পৌঁছানো মাত্রই রাহুল তাঁর বাবাকে আচমকা বাইক থামাতে বলে।
- বুকে পরপর গুলি: বাইক থামানো মাত্রই কোমর থেকে পিস্তল বের করে অত্যন্ত কাছ থেকে বাবার বুকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি চালায় রাহুল। রামনারেশ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় সে।
- চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু: আশঙ্কাজনক অবস্থায় রামনারেশকে প্রথমে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাঁকে প্রয়াগরাজের এসআরএন (SRN) হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নেপথ্যে ৬ মাসের আর্থিক টানাপড়েন ও পারিবারিক বিবাদ
মঞ্জনপুরের সার্কেল অফিসার (CO) শিভাঙ্ক সিং জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এই খুনের নেপথ্যে গভীর পারিবারিক ও আর্থিক বিবাদের তত্ত্ব উঠে এসেছে। রামনারেশের পরিবারের সদস্যদের সাথে তাঁর গত ছয় মাস ধরে টাকা-পয়সা নিয়ে তীব্র অশান্তি চলছিল।
পারিবারিক দূরত্বের খতিয়ান:
- সংসারের খরচ না দেওয়ার অভিযোগ: সন্তানদের পড়াশোনা এবং প্রতিদিনের সংসারের খরচের জন্য রামনারেশ পর্যাপ্ত টাকা দিচ্ছিলেন না বলে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। এই নিয়ে পরিবারে প্রতিনিয়ত চরম উত্তেজনা তৈরি হতো।
- আলাদা বসবাস: এই অশান্তির জেরে রামনারেশ নিজে তাঁর বড় ভাই রাকেশের সঙ্গে থাকতেন। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী সুধা দেবী, তিন ছেলে রাহুল, অরুণ ও অঙ্কিত এবং মেয়ে বিট্টান দেবী গ্রামের বাড়িতে সম্পূর্ণ আলাদা থাকতেন।
কাকার অভিযোগে মামলা রুজু, পলাতক ছেলের খোঁজে পুলিশ
রামনারেশের মৃত্যুর পর তাঁর বড় ভাই রাকেশ নিজের ভাইপো রাহুলের বিরুদ্ধে থানায় সুনির্দিষ্ট খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মঞ্জনপুর থানার পুলিশ রাহুলের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে।
সার্কেল অফিসার শিভাঙ্ক সিং জানিয়েছেন, অভিযুক্ত রাহুলকে দ্রুত গ্রেফতার করতে পুলিশের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। ঘটনার পর সে কোথায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে তা জানতে সম্ভাব্য সমস্ত আস্তানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই সুপরিকল্পিত খুনের ঘটনার সাথে পরিবারের আর কারও উস্কানি বা যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ প্রশাসন।