শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ২৪ ঘণ্টাতেই ইস্তফা দিলেন জিটিএ চেয়ারম্যান অনীত থাপা!

পাহাড়ের রাজনীতিতে এক বড়সড় নাটকীয় মোড় নিলো গোর্খাল্যান্ড আঞ্চলিক প্রশাসন বা জিটিএ। দুর্নীতি ইস্যুতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ‘জিটিএ ফাইলস’ খোলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করলেন অনীত থাপা। পাহাড়ে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সেই বিস্ফোরক বার্তার পরপরই অনীত থাপার এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিজের পদত্যাগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে অনীত থাপা জানিয়েছেন, তিনি নিজেই জিটিএ-র যাবতীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক তদন্তের দাবিকে স্বাগত জানাচ্ছেন।
নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক সংঘাত
এই আকস্মিক রাজনৈতিক ঝড়ের সূত্রপাত মূলত দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি পাহাড়ে এক রাজনৈতিক সফরে গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জিটিএ-র বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন যে, খুব দ্রুতই জিটিএ-র ভেতরের সমস্ত গোপন ফাইল ও দুর্নীতির খতিয়ান জনসমক্ষে আনা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হুঁশিয়ারির পরেই অনীত থাপার ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছিল। কোনো বড় ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই পদত্যাগ করে তিনি হয়তো রাজনৈতিকভাবে নিজেকে নিরাপদ অবস্থানে রাখতে চেয়েছেন অথবা তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
পাহাড়ে সম্ভাব্য প্রভাব
অনীত থাপার এই ইস্তফা পাহাড়ের বর্তমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল। জিটিএ চেয়ারম্যানের পদত্যাগের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের উন্নয়নমূলক কাজগুলো সাময়িকভাবে থমকে যেতে পারে। একই সঙ্গে, আসন্ন দিনগুলোতে পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার পুনর্দখলের লড়াই আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্নীতি ইস্যুতে কেন্দ্রের বা রাজ্যের কোনো তদন্তকারী সংস্থা যদি সত্যি সত্যিই তদন্ত শুরু করে, তবে তা পাহাড়ের রাজনীতি ছাড়িয়ে কলকাতার অলিন্দ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।