উদ্ধবের হাত ছাড়লেন ৬ সাংসদ, মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের বড়সড় ভাঙনের কম্পন!

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও এক বড়সড় নাটকীয় পটপরিবর্তন ঘটে গেল। ২০২২ সালের স্মৃতি উসকে দিয়ে শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) শিবিরের ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ৬ জনই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা পৃথক গোষ্ঠী গঠনের দাবি জানিয়েছেন। এই মর্মে ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন ওই ৬ সাংসদ, যেখানে তাঁদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
স্পিকারকে চিঠি দেওয়া সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন সঞ্জয় যাদব, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল অষ্টিকার, ওমরাজে নিম্বালকর, ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে এবং সঞ্জয় দিনা পাটিল। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ এই চিঠি পাঠানো হয়। জানা গেছে, নান্দেড়, পুনে ও মুম্বই থেকে ব্যক্তিগত বিমানে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন এই বিদ্রোহী সাংসদরা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, তাঁদের সঙ্গে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার এক শীর্ষ নেতাও উপস্থিত ছিলেন।
নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক তৎপরতা
এই দলবদলের জল্পনার মাঝেই দিল্লিতে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউতের বাসভবনে একটি জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডাকা হয়। কিন্তু সেখানে অরবিন্দ সাওয়ান্ত, অনিল দেশাই এবং রাজাভাউ ওয়াজে—মাত্র এই ৩ জন সাংসদ উপস্থিত থাকায় দলের ভাঙনের আশঙ্কা আরও জোরালো রূপ নেয়।
এই ভাঙনের নেপথ্যে শাসক শিবিরের ‘অপারেশন টাইগার’ বা ‘অপারেশন লোটাস’-এর ছায়া দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলবদলকারী সাংসদরা মূল ধারার শিবসেনা তথা একনাথ শিন্ডের শিবিরে যোগ দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই বিদ্রোহের মুখে দাঁড়িয়ে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা সঞ্জয় রাউত কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, সমস্ত সাংসদই উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বে এবং দলের মশাল প্রতীকে জিতে এসেছেন, মোদীর নামে নয়। কেউ দল ছাড়তে চাইলে তাঁকে আগে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে এবং দলবদল করলে তার রাজনৈতিক মোকাবিলা করা হবে।
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই ভাঙনের ফলে উদ্ধব ঠাকরের রাজনৈতিক অস্তিত্বের ওপর নতুন করে বড় ধাক্কা এল। লোকসভায় দলীয় শক্তি এক ধাক্কায় কমে যাওয়ার ফলে জাতীয় রাজনীতিতে উদ্ধব শিবিরের দর কষাকষির ক্ষমতা অনেকটাই হ্রাস পাবে। অন্যদিকে, একনাথ শিন্ডের শিবসেনা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, যা আগামী দিনে মহারাষ্ট্রের রাজ্য রাজনীতিতে শিন্ডে-বিজেপি জোটের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে। ২০২২ সালে যেভাবে বিধায়ক দল ভেঙে শিবসেনা দু’টুকরো হয়েছিল, ২০২৬ সালের এই ঘটনা কার্যত প্রমাণ করল যে মহারাষ্ট্রের ক্ষমতার অলিন্দে শিবসেনার রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে লড়াই এখনও শেষ হয়নি।