টলিপাড়ার ভবিষ্যৎ বদলে দিতে নবান্নে মেগা বৈঠক, গঠন হতে পারে তারকাখচিত উপদেষ্টা কমিটি

টলিপাড়ার ভবিষ্যৎ বদলে দিতে নবান্নে মেগা বৈঠক, গঠন হতে পারে তারকাখচিত উপদেষ্টা কমিটি

পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটাতে নবান্নে সম্পন্ন হলো একটি উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক। রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধীনে থাকা বিভিন্ন সংস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং টলিউডের অভ্যন্তরীণ সংকট মেটাতে এই বৈঠকে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকের অভ্যন্তরীণ কার্যবিবরণী (মিনিটস অব মিটিং) প্রকাশ্যে আসতেই এখন টলিপাড়ার অন্দরে তুমুল শোরগোল।

তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের শীর্ষ আধিকারিক এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডাঃ সুব্রত গুপ্তের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ছিলেন বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় এবং পাপিয়া অধিকারী। বর্তমান বিনোদন শিল্পের সামগ্রিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে তা সংস্কার করাই ছিল এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।

আমূল পরিবর্তনের পথে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধীনস্থ প্রায় ৪০টি কমিটি ও সংস্থার কাজ নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। একই ধরনের কাজ করা একাধিক সংস্থাকে এক ছাতার তলায় এনে কাজের গতি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সরকারি অডিটোরিয়াম ও হল বরাদ্দের ক্ষেত্রে জটিলতা দূর করতে একটি অভিন্ন অনলাইন আবেদন পদ্ধতি চালুর বিষয়েও একমত হয়েছেন আধিকারিকেরা। দফতরের বার্ষিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচিগুলোকেও নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা চলছে।

ফেডারেশনের রাশ টানার চেষ্টা ও নতুন উপদেষ্টা কমিটি

চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অচলাবস্থা এবং ফেডারেশনের পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপস্থিত বিধায়কেরা। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেডারেশন ও বিভিন্ন গিল্ডকে যদি আরও পেশাদার এবং স্বচ্ছ না করা যায়, তবে টলিউড বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ টেকনিশিয়ানদের কর্মসংস্থানে। যেহেতু এই সংগঠনগুলো ১৯২৬ সালের ট্রেড ইউনিয়ন আইন মেনে নিবন্ধিত, তাই সম্পূর্ণ আইনি পথ মেনেই সংস্কার প্রক্রিয়া চালানো হবে। বর্তমান আইনি অবস্থান স্পষ্ট করতে ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে একটি বিস্তারিত রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে।

শিল্পের স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখতে এবং সমস্ত পক্ষকে সঠিক দিশা দেখাতে একটি শক্তিশালী ‘উপদেষ্টা কমিটি’ গঠনের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এই কমিটির সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, সাংসদ-অভিনেতা দীপক অধিকারী (দেব), প্রযোজক মহেন্দ্র সোনি, পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং সানি ঘোষ রায়ের মতো প্রথম সারির ব্যক্তিত্বরা। এই কমিটিতে নবান্নের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি চার বিধায়ককেও রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রশাসনিক এই তৎপরতা এবং প্রস্তাবিত উপদেষ্টা কমিটির রূপরেখা আগামী দিনে টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে এক নতুন ও স্বচ্ছ পেশাদারিত্বের পরিবেশ তৈরি করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *