রাম মন্দিরে অর্থ তছরুপের অভিযোগ, ‘সবাই চোর’ বলে সরব খোদ বিজেপি নেতাই!

রাম মন্দিরে অর্থ তছরুপের অভিযোগ, ‘সবাই চোর’ বলে সরব খোদ বিজেপি নেতাই!

অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানপাত্রে জমা হওয়া অর্থ তছরুপের চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ‘সিট’ (SIT) গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই মন্দিরের দুই কর্মচারীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে লব কুশ মিশ্র নামে এক কর্মচারীর বাড়ি থেকে ১০ লক্ষ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে এবং আরও একজনের কাছ থেকে প্রচুর সোনাদানা পাওয়া গিয়েছে। মাত্র ২৭ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারীদের হঠাৎ এমন আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বিপুল সম্পত্তির প্রমাণ মেলায় তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিজেপির অন্দরে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভ

এই আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির অন্দরে প্রবল অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। রাম মন্দির আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ বিনয় কাটিয়ার এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ওখানে সবাই চোর এবং প্রত্যেকের ভূমিকার উপযুক্ত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। রাম মন্দির ট্রাস্ট থেকে অভিযুক্তদের অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি, দলের আরেক প্রাক্তন সাংসদ ব্রীজ ভূষণ শরণ সিং ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় সত্য প্রকাশে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি উত্তরপ্রদেশ রাজ্য বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরীও এই অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে স্বীকার করে নিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও বিরোধীদের চাপ

এই ঘটনার সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র নির্মাণ ট্রাস্টের সম্পাদক চম্পৎ রাই দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র এবং চম্পৎ রাইয়ের মতো শীর্ষ আধিকারিকরা সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার মনোনীত হওয়ায় এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও অস্বস্তিতে পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই পথে নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছে। এছাড়া, শুধু সিট তদন্ত নয়, ট্রাস্টের শীর্ষ পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর হলে তা আসন্ন রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির জন্য চূড়ান্ত অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *