সাংসদ পদ বাঁচাতে বড় চাল সুদীপের, ২০ জুলাই তৃণমূলের নাম ও প্রতীক দখলের মেগা মাস্টারপ্ল্যান!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নজিরবিহীন ওলটপালটের পর এবার শুরু হতে চলেছে এক চরম আইনি ও অধিকারের লড়াই। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২০ জন বিক্ষুব্ধ লোকসভা সাংসদ দিল্লির দরবারে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI) নামে একটি নিবন্ধিত আঞ্চলিক দলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই নাটকীয় দলবদলের মাঝেই এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিলেন কলকাতা উত্তরের বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জি। কেন তাঁরা সরাসরি আলাদা কোনও ব্লক তৈরি না করে অন্য একটি দলে মিশে গেলেন, সেই রহস্যও এদিন উন্মোচন করেছেন তিনি।

দলত্যাগ বিরোধী আইনের ফেরে এড়াতে টেকনিক্যাল চাল

আইনি জটিলতার কথা মাথায় রেখেই যে এই নিখুঁত রাজনৈতিক চাল চালা হয়েছে, তা সুদীপ ব্যানার্জির কথাতেই পরিষ্কার। পদ বাঁচানোর জন্য টেকনিক্যাল কারণেই এই মুহূর্তে অন্য একটি দলের ছাতার তলায় আশ্রয় নিতে হয়েছে তাঁদের।

এই কৌশলের মূল কারণগুলি হলো:

  • পদ বাঁচানোর তাগিদ: আইন অনুযায়ী কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ বা বিধায়ক একসাথে দল ছাড়লেও, তাঁরা যদি অন্য কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত না করেন, তবে দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) ফেরে পড়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকি থাকে।
  • দুই-তৃতীয়াংশের যুক্তি: সুদীপের দাবি, যখন কেউ দলের দুই-তৃতীয়াংশ শক্তি নিয়ে একযোগে বের হয়ে আসেন, তখন সেটাকে আর ‘দলত্যাগ’ বলা চলে না। তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রথম দিনই মূল দলের নাম বা প্রতীকের ওপর সরাসরি দাবিদাওয়া পেশ করা যায় না।

২০ জুলাই লোকসভায় আসল খেলা, প্রতীক ও নাম দখলের ব্লু-প্রিন্ট

বিক্ষুব্ধ এই সাংসদদের আসল খেলাটা শুরু হতে চলেছে আগামী জুলাই মাসে, যখন সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। সুদীপ ব্যানার্জি অত্যন্ত আত্ম বিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন যে, আগামী ২০ জুলাই যখন লোকসভা খুলবে, তখন স্পিকারের কাছে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে এক বড় দাবি পেশ করতে চলেছেন।

তাঁদের আগামী দিনের রণকৌশল:

  • প্রকৃত দল হিসেবে দাবি: স্পিকারের কাছে তাঁরা নথি দিয়ে দাবি জানাবেন যে, তাঁরাই আসলে মূল তৃণমূল কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য এবং তাঁরাই প্রকৃত দল।
  • ঘাসফুল চিহ্নের অধিকার: লোকসভার ভেতরে ও বাইরে ঘাসফুল শিবিরের লোগো, প্রতীক এবং যাবতীয় পরিচয়ের আসল দাবিদার যে তাঁরাই হতে চলেছেন, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট করে দিয়েছেন বর্ষীয়ান এই নেতা।

সুদীপ ব্যানার্জি আরও যোগ করেন যে, বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই এক দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং আদালতের দরজায় পৌঁছাবে, আর আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সব মিলিয়ে, দুই-তৃতীয়াংশের এই দলবদলে সাংসদ পদ বাঁচানোর পাশাপাশি মূল দলের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে নেওয়ার এক সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান কষেছেন সুদীপ ও তাঁর সহযোগী বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *