শিল্পে ২০ হাজার কোটির মাস্টারস্ট্রোক, বাতিল আর্থিক সুবিধা ফেরাতে বাজেটে চমকের পথে নতুন সরকার!

শিল্পে ২০ হাজার কোটির মাস্টারস্ট্রোক, বাতিল আর্থিক সুবিধা ফেরাতে বাজেটে চমকের পথে নতুন সরকার!

বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর নবান্নের কুর্সিতে বসেই রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনে একের পর এক বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার রাজ্যের বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পের চাকা ঘোরাতে এক মেগা পরিকল্পনার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে নতুন বিজেপি সরকার। প্রশাসন সূত্রের খবর, পূর্বতন তৃণমূল সরকার এক ঝটকায় যে ২০ হাজার কোটি টাকার শিল্প ভর্তুকি ও আর্থিক সুবিধা প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছিল, তা নতুন আইনের মাধ্যমে ফের পুনরুজ্জীবিত করতে চলেছে নবান্ন। আগামী সপ্তাহেই রাজ্যের নতুন সরকার তাদের প্রথম বাজেট পেশ করতে চলেছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই বাজেট অধিবেশনেই শিল্পকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা

বাংলায় বিনিয়োগ টানতে এবং নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে বামফ্রন্ট সরকারের হাত ধরে কারখানা গড়ার ক্ষেত্রে মূলধনী বিনিয়োগ ও যন্ত্রাংশ বসানোর মতো শর্তের ওপর ভিত্তি করে ১০টি আর্থিক সুবিধা প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরেও তিন বার এই নীতি সংশোধন করে তা চালু রেখেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এক অভূতপূর্ব আইন এনে বিগত সরকারের পক্ষ থেকে ১৯৯৩ সাল থেকে চলে আসা সমস্ত আর্থিক সুবিধা এক ঝটকায় তুলে দেওয়া হয়। তদানীন্তন নবান্নের যুক্তি ছিল, সামাজিক প্রকল্পগুলির খরচ সামলাতে রাজ্যের কোষাগার খালি, তাই শিল্পের জন্য আর বাড়তি টাকা খরচ করা সম্ভব নয়। এর ফলে এক ধাক্কায় মাঝারি ও বড় বিনিয়োগকারীদের প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা বাতিল হয়ে যায়, যা নিয়ে লগ্নিকারীদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং আদালতের দ্বারস্থ হন। রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই লগ্নিকারীদের সেই ক্ষোভ প্রশমন ও আস্থা ফেরাতে ইতিবাচক পদক্ষেপের নীতি নেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও নতুন আইনের খসড়া

প্রবীণ আমলা মহলের একাংশের দাবি, পূর্বতন সরকারের ওই সিদ্ধান্ত আসলে আগাম প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আইনি নীতি বা ‘প্রমিসরি এস্টোপেল’ লঙ্ঘনের সামিল ছিল। কারণ, সরকারের দেওয়া ছাড়ের হিসেব কষেই শিল্পপতিরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, যা মাঝপথে কেড়ে নেওয়ায় রাজ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটে পড়েছিল। আমলাদের স্পষ্ট বক্তব্য, সামাজিক উন্নয়ন যেমন জরুরি, তেমনই শিল্পের প্রাপ্য সুবিধা কেড়ে নিলে রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতি স্তব্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে শিল্পের আর্থিক সুবিধা প্রকল্প পুনরুজ্জীবনের জন্য নতুন আইনের খসড়া তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন মূল কৌতূহল হলো, আগামী সপ্তাহের বাজেটে শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই ২০ হাজার কোটির শিল্পাবর্তন নীতি ঘোষণা করবেন, নাকি দিল্লির কোনো বিশেষ প্যাকেজের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করা হবে। শিল্পের এই প্রত্যাবর্তনের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *