রাজ্য পুলিশের হারানো গৌরব ফেরাতে ঐতিহাসিক চুক্তি! আধুনিক হচ্ছে প্রশাসন

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই পুলিশ প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এবং আধিকারিকদের মেধার অবমূল্যায়নের ধারা ভেঙে এবার আধুনিকায়নের পথে হাঁটছে রাজ্য প্রশাসন। বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় রক্ষা ইউনিভার্সিটির সঙ্গে রাজ্য পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মউ বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
উন্নয়নের স্বার্থে নয়া পদক্ষেপ
গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্রীয় রক্ষা ইউনিভার্সিটির তরফে রাজ্যকে এই চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হলেও তৎকালীন সরকার তাতে বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার পুলিশের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, আসাম বা উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যগুলির পদাঙ্ক অনুসরণ করে এই চুক্তির মাধ্যমে পুলিশকর্মীদের কর্মদক্ষতার সঠিক মূল্যায়নের পাশাপাশি তাঁদের আধুনিক পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, একসময় আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার পুলিশের সুনাম থাকলেও বিগত সরকার সেই দক্ষতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগায়নি।
প্রশিক্ষণ ও আধুনিকায়নের ব্লুপ্রিন্ট
এই চুক্তির ফলে রাজ্য পুলিশের আইপিএস, ডব্লিউবিপিএস থেকে শুরু করে ইনস্পেক্টর ও সাব-ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিকরা বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। সাইবার ক্রাইম, ডার্ক ওয়েব, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ফরেনসিক সায়েন্স থেকে শুরু করে সীমান্ত নজরদারি এবং নারী পাচার রোধের মতো যুগোপযোগী বিষয়ে তাঁদের দক্ষ করে তোলা হবে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীরাও এই প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিতে পারবেন। পাশাপাশি পুলিশে কর্মী ঘাটতি মেটাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে নতুন নিয়োগের ঘোষণাও করা হয়েছে। সরকারের এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে পুলিশ বাহিনী প্রযুক্তিগতভাবে অত্যাধুনিক হয়ে উঠবে এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।