তৃণমূলে অব্যাহত ইস্তফার হিড়িক, প্রদীপের পর পদ ছাড়লেন রবীন্দ্রনাথ!

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলের সব কমিটি ভেঙে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই নতুন কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পরই নেতাদের ইস্তফার প্রবণতা শীর্ষ নেতৃত্বের অস্বস্তি ক্রমশ বাড়াচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে প্রদীপ সরকারের ইস্তফার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চাইলেন বর্ষীয়ান নেতা রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়।
ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত দায়িত্ব গ্রহণে অনীহা
গত শনিবার তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিভিন্ন জেলার সভাপতিদের নামের তালিকা প্রকাশ করেন, যেখানে পূর্ব বর্ধমানের দায়িত্ব দেওয়া হয় রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু বুধবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে ইমেল মারফত নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি। ওই চিঠিতে রবীন্দ্রনাথবাবু স্পষ্ট জানান যে, ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি এই মনোনয়নের কথা জানতে পেরেছেন এবং এই পদে থাকতে তিনি একেবারেই ইচ্ছুক নন। যদিও পদত্যাগের কোনও নির্দিষ্ট কারণ তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেননি।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভের জের ও দলের অন্দরে প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ইস্তফার নেপথ্যে রয়েছে সম্প্রতি কাটোয়ায় ঘটে যাওয়া একটি অনভিপ্রেত ঘটনা। কিছুদিন আগে কাটোয়ায় দলীয় কার্যালয়ের পাশে একটি গোডাউন থেকে সরকারি ত্রিপল সরানোর সময় স্থানীয়দের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভের পাশাপাশি ডিম ছোঁড়ার ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে এবং অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। বর্তমানে তিনি কলকাতায় মেয়ের বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন। জনসমক্ষে এই চূড়ান্ত হেনস্থার কারণেই তিনি আর দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব নিতে চাইছেন না বলে মনে করা হচ্ছে। একের পর এক জেলা নেতার এই দ্রুত পদত্যাগের ঘটনা দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল দুর্বল করার পাশাপাশি তৃণমূলের জেলাস্তরের সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।