জনতার ক্ষোভের আগুনে ছারখার ডোমজুড়ের তৃণমূল পার্টি অফিস, নেপথ্যে কি তোলাবাজির অভিযোগ

হাওড়ার ডোমজুড়ের নিবরা এলাকায় ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় আচমকাই উত্তেজিত জনতা ওই পার্টি অফিসে চড়াও হয়। ব্যাপক ভাঙচুরের পর পুরো কার্যালয়টিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার খবর পেয়ে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
বিলাসবহুল কার্যালয় ও ক্ষোভের কারণ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই পার্টি অফিসটি এলাকা জুড়ে বেআইনি কাজকর্মের ‘আঁতুড় ঘর’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ক্লাব-কাম-পার্টি অফিসটিতে খাট, সোফা এবং ফ্রিজসহ একটি বিলাসবহুল হোটেলের মতো সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ছিল। সাধারণ মানুষের মূল ক্ষোভের কারণ ছিল এই অফিসকে কেন্দ্র করে চলা লাগামহীন তোলাবাজি। ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারের স্থানীয় দোকানদারদের ইলেকট্রিক মিটার বক্স এই পার্টি অফিসে রাখা ছিল এবং প্রতি মাসে আসল বিলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক আদায় করা হতো। টাকা দিতে অস্বীকার করলে মিলত হুমকি। তৃণমূল শাসনামলে বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার না মেলায় এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বুধবারের গণবিক্ষোভে।
ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার ফলে ডোমজুড় ও সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শাসকদলের কার্যালয়ে এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সাথে, ব্যবসায়ীদের ওপর আর্থিক জুলুম এবং তোলাবাজির এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে প্রশাসনের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা জনরোষ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।