১১০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান, ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে আমেরিকা ও ইরান!

১১০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান, ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে আমেরিকা ও ইরান!

দীর্ঘ ১১০ দিনের সংঘাতের পর অবশেষে শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করল আমেরিকা ও ইরান। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ভোরে ভার্সাই প্রাসাদে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর এই আকস্মিক পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে স্বস্তি ফিরেছে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে যাচ্ছে, যা বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চুক্তির শর্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব

‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামের এই চুক্তির মূল লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, লেবানন-সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করা হবে। আমেরিকা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ওই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করবে। অন্যদিকে, ইরান আগামী ৬০ দিন কোনো অতিরিক্ত ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার জেরে যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, এই চুক্তির ফলে তার অবসান ঘটতে চলেছে।

বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও আগামী দিনের রূপরেখা

শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা থাকলেও তা আগেই ফ্রান্সে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, চুক্তির আসল পরীক্ষা হবে এর বাস্তবায়নে এবং নির্ধারিত জেনেভা বৈঠকটি যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৬০ দিন দুই দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির খসড়া নিয়ে উভয় পক্ষকে সম্পূর্ণ একমতে পৌঁছাতে হবে। এই আলোচনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *