রাজ্য রাজনীতিতে বেনজির ডামাডোল, বাজেট অধিবেশনের আগেই ফ্লোর টেস্টের চ্যালেঞ্জ ঋতব্রতর!

এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ডামাডোল এবং চরম উত্তেজনার আবহে আজ থেকে শুরু হচ্ছে অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম বাজেট অধিবেশন। রাজ্যপাল আর. এন. রবির উদ্বোধনী ভাষণের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক অধিবেশনের সূচনা হবে এবং আগামী ২২ জুন ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের রাজ্য বাজেট পেশ করবেন নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তবে অধিবেশনের শুরুর দিনেই শাসক দল এবং তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে প্রবল সংঘাতের আভাস মিলেছে।
বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে ফ্লোর টেস্টের চ্যালেঞ্জ
স্পিকারের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দলের অফিশিয়াল শিবির থেকে এই নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানানো হয়েছে। এই অন্তর্দ্বন্দ্বের জবাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, স্পিকার চাইলে তিনি বিধানসভার বুকেই ফ্লোর টেস্টের মাধ্যমে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি, গত ১৫ বছরের প্রথা ভেঙে বিধানসভার কার্যদিবস বাড়ানোরও জোরালো দাবি তুলেছেন তিনি।
সর্বদলীয় বৈঠকে ব্রাত্য মমতাপন্থীরা
অধিবেশন শুরুর আগে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার বিরোধীদের কণ্ঠরোধ বা সাসপেন্ড করবে না এবং যেকোনো গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানাবে। কিন্তু এই ইতিবাচক বার্তার মাঝেই সর্বদলীয় বৈঠক থেকে মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়কদের সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ঋতব্রত শিবির আমন্ত্রণ পেলেও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের মতো নেতাদের ব্রাত্য রাখা হয়েছে। বিধানসভার অন্দরে মমতাপন্থীদের কোণঠাসা করার এই কৌশল এবং বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা প্রমাণ করছে, আগামী দিনগুলোতে বিধানসভার মেঝেতে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংঘাত আছড়ে পড়তে চলেছে।