বহিষ্কৃত বিধায়ক কীভাবে বিরোধী দলনেতা! আজই ঋতব্রতর ভাগ্য নির্ধারণ হাইকোর্টে

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও কীভাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পেলেন, তা নিয়ে আজ চূড়ান্ত রায় দিতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া এই মামলার রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে আদালতের প্রশ্ন
তৃণমূলের তরফে বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করা হলেও দলের বিদ্রোহী শিবিরের সমর্থনে সেই পদ পান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার প্রথম পক্ষের চিঠিকে গুরুত্ব না দিয়ে দ্বিতীয় পক্ষের চিঠি গ্রহণ করে তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। আদালতের পর্যবেক্ষণ, স্পিকার প্রথম আবেদনকারীকে শুনানির সুযোগ দেননি এবং দু’পক্ষকে ডেকে বিষয়টি যাচাই করেননি। দল থেকে ১ জুন বহিষ্কৃত হওয়া একজন বিধায়ককে শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নিয়েই মূলত আইনি জট তৈরি হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
এই আইনি জটিলতার মূল কারণ শাসকদলের অন্দরের প্রবল অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং বিদ্রোহী শিবিরের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের চেষ্টা। হাইকোর্টের আজকের রায় রাজ্য রাজনীতির আগামী দিনের সমীকরণ নির্ধারণে নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে। আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্ত খারিজ করলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার পদ হারাতে হবে, যা মূল তৃণমূল শিবিরের জন্য একটি বড় আইনি ও রাজনৈতিক স্বস্তি বয়ে আনবে। অন্যদিকে, এই মামলায় স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে তা বিধানসভায় বিদ্রোহী শিবিরের অবস্থানকে আরও মজবুত করবে।