বর্ষায় আর জল জমে থমকে যাবে না ট্রেন, হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনে পূর্ব রেলের মহাপ্রস্তুতি!

বর্ষায় আর জল জমে থমকে যাবে না ট্রেন, হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনে পূর্ব রেলের মহাপ্রস্তুতি!

প্রতি বছর বর্ষাকাল এলেই রেলযাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। সামান্য বৃষ্টিতেই রেললাইন জলমগ্ন হয়ে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হওয়া এ অঞ্চলের একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং আসন্ন বর্ষায় যাত্রী পরিষেবা মসৃণ রাখতে এবার অভূতপূর্ব উদ্যোগ নিয়েছে পূর্ব রেল। মূলত পরিকাঠামোগত ত্রুটি এবং অপরিকল্পিত নিকাশি ব্যবস্থার কারণেই অতীতে রেললাইনে জল জমার মতো ঘটনা ঘটেছে। এবার সেই মূল কারণগুলোকে চিহ্নিত করে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্করের নেতৃত্বে ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল, সিগন্যালিং এবং অপারেটিং ইউনিট যৌথভাবে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে।

নিকাশি পরিচ্ছন্নতা এবং রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং

রেললাইনের পাশে জল জমে থাকার প্রধান কারণ হলো আবর্জনা ও পলি জমে ড্রেনগুলোর নাব্যতা হারিয়ে ফেলা। এই সমস্যা সমাধানে হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনের ইয়ার্ড এবং রেলওয়ে কলোনিগুলোতে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। হাওড়া ডিভিশনে ট্র্যাকের পাশের বিশাল ১০৬,৮ազմী মিটার ড্রেনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১০৪,০৯৭ মিটার সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হয়েছে। একইভাবে শিয়ালদহ ডিভিশনেও ইয়ার্ড পরিষ্কারের কাজ শেষ। নজরদারি ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে এবার যুক্ত করা হয়েছে রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং পদ্ধতি। হাওড়া ডিভিশনের ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের মধ্যে ৯টিতে ইতিমধ্যেই টহলদারি শুরু হয়েছে এবং বাকি ৩৮টি জায়গাকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, শিয়ালদহ ডিভিশনেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্রিয় করা হয়েছে মনসুন পেট্রোলিং চার্ট।

অবকাঠামোগত নজরদারি ও জরুরি প্রস্তুতি

আকস্মিক বন্যা বা অতিবৃষ্টির প্রভাব মোকাবিলায় পরিকাঠামোগত বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে রেল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়ভাবে জলের স্তর পর্যবেক্ষণের জন্য হাওড়া ডিভিশনে ১০টি নতুন লিমিটেড হাইট সাবওয়ে (LHS) তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ২৪ ঘণ্টার জন্য পেট্রোলম্যান নিযুক্ত থাকছেন। জল জমার প্রবণতা বেশি এমন আরও ৫৪টি সাবওয়েতেও কর্মী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাত্রী সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে হাওড়া ডিভিশনের ১৯৫টি স্টেশন এবং ১,৪৯৩টি প্ল্যাটফর্ম শেড পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় মেরামত করা হয়েছে। ওভারহেড লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং লোকো পাইলটদের দৃশ্যমানতা ঠিক রাখতে ট্র্যাকের ধারের গাছপালা ছাঁটাই করা হয়েছে। এছাড়া, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পাথরের গুঁড়ো এবং ভারী বোল্ডার মজুত রাখা হয়েছে।

পূর্ব রেলের এই সমন্বিত ও প্রযুক্তিগত উদ্যোগের ফলে এবার ভারী বৃষ্টিতেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিখুঁত পরিকল্পনা এবং ২৪ ঘণ্টার এই সতর্ক নজরদারি লাখ লাখ নিত্যযাত্রীর বর্ষাকালীন দুর্ভোগ চিরতরে অবসান ঘটাতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *