পালটা মারের মুখে বিজেপি! ভাঙন রুখতে রাজ্যসভা ভোটের আগে হোটেলবন্দি ২৪ বিধায়ক

জাতীয় রাজনীতিতে যখন বিরোধী দলগুলোতে ধারাবাহিক ভাঙনের চিত্র দেখা যাচ্ছে, ঠিক তখনই উলটপুরাণ ঝাড়খণ্ডে। আগামী ১৮ জুন রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে সেখানে নিজেদের শিবির অটুট রাখতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে বিজেপি। ইন্ডিয়া জোটের পালটা মারের আশঙ্কায় এবার নিজেদের ২৪ জন এনডিএ বিধায়ককে রাঁচির একটি বিলাসবহুল হোটেলে বন্দি করে রাখতে বাধ্য হয়েছে গেরুয়া শিবির। ভোটদান পর্যন্ত কড়া পাহারায় সেখানেই থাকবেন তাঁরা।
ভয়ের কারণ ও পালটা দাবি
শাসক জোটের প্রধান দুই শরিক কংগ্রেস ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)-এর দাবি, বিজেপির বেশ কয়েকজন বিধায়ক ইতিমধ্যেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। আর সেই দলবদল বা ক্রস-ভোটিং আটকাতেই বিধায়কদের তড়িঘড়ি হোটেলে ঢোকাচ্ছে বিজেপি। অন্যদিকে, এই ভাঙনের তত্ত্ব খারিজ করে বিজেপির পালটা অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন অনৈতিকভাবে বিধায়ক কেনাবেচার চেষ্টা করছেন। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভোটের সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
৮১ আসন বিশিষ্ট ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় ৩টি রাজ্যসভা আসনের লড়াইতে প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ২৮টি ভোট। এই মুহূর্তে সমীকরণ পুরোপুরি শাসক জোটের পক্ষে। জেএমএম, কংগ্রেস এবং অন্যান্য শরিক মিলিয়ে ইন্ডিয়া জোটের হাতে রয়েছে ৫৬ জন বিধায়কের সমর্থন। ফলে নিজেদের ৩৪ জন বিধায়ক নিয়ে জেএমএম প্রার্থীর জয় একেবারেই নিশ্চিত। কংগ্রেসের ১৬ জন বিধায়ক থাকলেও শরিকদের সমর্থনে তাদের প্রার্থীর জয় নিয়েও বিশেষ সংশয় নেই। অন্যদিকে, এনডিএ-র হাতে রয়েছে মাত্র ২৪ জন বিধায়ক। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবির থেকে ভোট না টানতে পারলে বিজেপির জয় কার্যত আসাম্ভব। কিন্তু অন্য দল ভাঙানোর বদলে বিজেপিকে এখন নিজেদের ঘর সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে, যা ভোটের লড়াইয়ে শাসক জোটের মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত অবস্থানকেই আরও শক্ত করছে।