বিধানসভা কক্ষে মুখোমুখি দুই গোষ্ঠী, বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই টানটান উত্তেজনা

আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। আগামী ২২ জুন বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তবে আর্থিক হিসাব-নিকাশের চেয়েও এবারের অধিবেশনে সকলের নজর কাড়ছে শাসক দল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ। অধিবেশন শুরুর আগের দিন বিধানসভার সচিবালয় কক্ষের আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা কাটাতে সক্ষম হলেও, একই দলের দুই যুযুধান গোষ্ঠীর পাশাপাশি বসার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সংসদীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে।
প্রথম সারিতেই বসার লড়াই
বিধানসভা সচিবালয় সূত্রের খবর, তৃণমূলের বিদ্রোহী ও মূল শিবিরের বিধায়কদের বসার আসন চূড়ান্ত হয়েছে। কক্ষের প্রথম সারিতে পাশাপাশি বসবেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। একই সারিতে স্থান দেওয়া হয়েছে প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। ফলে চিরপরিচিত রাজনৈতিক সতীর্থরা এবার কোন রসায়নে বিধানসভার কাজ পরিচালনা করেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
কারণ ও আইনি দোলাচল
তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের কোন্দল এবং সমান্তরাল গোষ্ঠী গড়ে ওঠাই এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির মূল কারণ। বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা চললেও আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি। ফলে আইনি জটিলতার কারণে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে এখনই বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হচ্ছে না। আইনজীবীদের পরামর্শ মেনে বিদ্রোহী বিধায়করা আপাতত আদালতের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
এই অধিবেশন রাজ্যের শাসক দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিদ্রোহী শিবিরের একাংশ ‘এনসিপিআই’ নামক রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার পক্ষে থাকলেও, অধিকাংশ বিধায়কই এখনই দল ছাড়ার বিরোধী। বিদ্রোহী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে বিধানসভায় তারাই প্রকৃত তৃণমূল এবং তা প্রমাণ করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বাজেট পাস করানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন ভোটাভুটির ক্ষেত্রে সরকারকে বড় ধরনের চাপে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।