অবশেষে বিধাননগর থানায় হাজিরা দিলেন অরূপ বিশ্বাস, মেসিকাণ্ডে বাড়ছে অস্বস্তি!

অবশেষে বিধাননগর থানায় হাজিরা দিলেন অরূপ বিশ্বাস, মেসিকাণ্ডে বাড়ছে অস্বস্তি!

মেসি-কাণ্ডে তিন বার পুলিশের সমন এড়ানোর পর অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তিনি থানায় পৌঁছান এবং তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন। এর আগে শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত এবং আদালতে রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়ে হাজিরা এড়িয়েছিলেন এই তৃণমূল নেতা। তবে শেষ পর্যন্ত ইভেন্ট উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হলো তাঁকে।

মেসির টিমের বিস্ফোরক ইমেল ও ঝামেলার সূত্রপাত

গত ডিসেম্বর মাসে কলকাতায় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ২২ হাজার টিকিট তুলে নেওয়া এবং তা অন্যত্র বিক্রি করার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই বিশৃঙ্খলার কারণে শতদ্রু দত্ত প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মামলা করারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুধু টিকিটের অনিয়ম নয়, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ইমেলের জবাবে স্বয়ং লিওনেল মেসির টিমও প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছে। মেসির টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী বারবার মেসিকে স্পর্শ করছিলেন এবং ছবি তোলার জন্য প্রোটোকল ভেঙে কাঁধে ও কোমরে হাত দিচ্ছিলেন। একই সঙ্গে মাঠে নির্ধারিত ৩ জন ফটোগ্রাফারের জায়গায় নিয়ম ভেঙে প্রায় ৪০ জনকে প্রবেশ করানো হয়, যা মেসির নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি করেছিল এবং তিনি বিরক্ত বোধ করেছিলেন।

আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

সরাসরি আন্তর্জাতিক স্তরের ফুটবল তারকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং টিকিট কেলেঙ্কারির এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই অরূপ বিশ্বাসকে তলব করেছিল পুলিশ। এই ঘটনার ফলে রাজ্যের ক্রীড়া প্রশাসন এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। মেসির টিমের এমন সরাসরি লিখিত অভিযোগ আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামহলে রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ থানায় প্রাক্তন মন্ত্রীর বয়ান রেকর্ড করার পর এই মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *