অখিলেশের জনপ্রিয়তায় কাঁপছে পদ্মশিবির, ভাঙন-তত্ত্ব উড়িয়ে বিজেপির দিকেই পাল্টা তোপ সপার

অখিলেশের জনপ্রিয়তায় কাঁপছে পদ্মশিবির, ভাঙন-তত্ত্ব উড়িয়ে বিজেপির দিকেই পাল্টা তোপ সপার

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। সম্প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং তাদের শরিক দলের নেতারা দাবি করেন যে সমাজবাদী পার্টিতে (সপা) বড়সড় ভাঙন ধরতে চলেছে এবং একাধিক সাংসদ দল ছাড়তে প্রস্তুত। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক আখ্যা দিয়ে পাল্টা আসরে নেমেছে সমাজবাদী পার্টি। সপা নেতাদের দাবি, উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদবের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা দেখেই বিজেপি কার্যত ভীত হয়ে পড়েছে এবং সেই আতঙ্ক থেকেই মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির চেষ্টা করছে।

ভাঙনের জল্পনা ও সপার পালটা আক্রমণ

বিতর্কের সূত্রপাত উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য এবং সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির প্রধান ওমপ্রকাশ রাজভরের মন্তব্য থেকে। তাঁরা দাবি করেন, পুরনো দুর্নীতির মামলার ফাঁস ক্রমশ শক্ত হওয়ায় সপার অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছে এবং প্রায় ২৫-২৬ জন সাংসদ বিজেপির সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রাখছেন। এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে সপার বর্ষীয়ান সাংসদ অবধেশ প্রসাদ কড়া ভাষায় জানান, সাধারণ মানুষের আস্থা এখন সমাজবাদী পার্টির ওপর বহুগুণ বেড়েছে, যা দেখে বিজেপি আবোলতাবোল বকছে। খোদ সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবও দল ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়ে সমাজমাধ্যমে জোট শরিকদের আসন পাওয়া নিয়ে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন।

ভবিষ্যতের সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিজেপি এই পরিস্থিতিকে বিরোধীদের পরিবারতন্ত্র ও দুর্নীতির কর্মফল বলে কটাক্ষ করলেও, শিবপাল সিং যাদবের মতো সপা নেতারা দলের অত্যন্ত মজবুত অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন। এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক তরজার মূল কারণ হলো আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে একে অপরের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। বিজেপি যেখানে বিরোধীদের মনোবল ভেঙে লখনউয়ের মসনদে নিজেদের আধিপত্য নিরঙ্কুশ করতে চাইছে, সেখানে সমাজবাদী পার্টিও নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে আসন্ন নির্বাচনের জন্য বিরোধী পরিসরে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *