তৃণমূলের তীব্র গৃহযুদ্ধ এবার ‘তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ’ করছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় জোড়াফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ ফাটল ও ভাঙন এবার প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। বিধানসভা অধিবেশনে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়কদের বসার জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ঘর এবং বক্তব্য পেশের জন্য পৃথক সময় বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের বৈঠকের পর এই যৌথ ঘোষণা দলের অন্দরের চরম কোন্দলকে সামনে এনে দিয়েছে। তবে বিরোধী শিবিরের এই ছটফটানি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের নতুন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। বরং পুরো পরিস্থিতি তিনি বেশ আনন্দ নিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন।
বিরোধী দলনেতা বিতর্ক ও বিধানসভার নতুন সমীকরণ
তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানান, বিরোধী শিবিরের দলনেতা কে হবেন বা কে কাকে নেতা মানবেন, সেটি সম্পূর্ণ তাঁদের নিজস্ব বিষয়। তবে সংসদীয় নিয়ম মেনে তারা যদি আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ঘর বা বিধানসভায় বলার জন্য আলাদা সময় দাবি করে, তবে স্পিকার তা খতিয়ে দেখবেন।
এদিকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার আসন নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, অধিবেশনে চিরাচরিত নিয়ম মেনে বিরোধী দলনেতার জন্য নির্দিষ্ট আসনটি প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের জন্য বরাদ্দ ছিল। যদিও এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে শিল্পমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, বিরোধী দলনেতার জন্য অধিবেশনে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ থাকে বলে তাঁর জানা নেই। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে বিরোধী শিবিরের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিগত আমলের নীতিহীনতা ও বিজিবিএসের ফাইল তলব
রাজ্যের নতুন শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাপস রায় বাংলার শিল্পায়নের বেহাল দশা এবং বিগত তৃণমূল সরকারের নীতিহীনতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিগত সরকারের আমলে রাজ্যে কোনো নির্দিষ্ট ‘শিল্পনীতি’ বা সঠিক ‘জমিনীতি’ ছিল না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ফাইল সই করানোর লাল ফিতের ফাঁসে পড়ে বিনিয়োগকারীরা এ রাজ্যে উৎসাহ হারিয়ে ফেলতেন। বর্তমান সরকার এই ধরনের টালবাহানা বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর।
এই পরিস্থিতির সম্ভাব্য বড় প্রভাব হিসেবে বিগত আমলের তথাকথিত শিল্পায়নের খতিয়ান খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন মন্ত্রী। অতীতে হওয়া মোট আটটি ‘বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট’ (বিজিবিএস)-এর আসল রূপ সাধারণ মানুষের সামনে আনতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন তিনি। বিগত সম্মেলনগুলোতে ঠিক কী কী ঘোষণা হয়েছিল, কতগুলো কাজ সম্পন্ন হয়েছে আর কতগুলো স্রেফ কাগজে-কলমে রয়ে গেছে, তার সমস্ত ফাইল ও খতিয়ান তলব করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বিগত আমলের শিল্প-বিজ্ঞাপনের আসল সত্য খুব শীঘ্রই প্রকাশ্যে আসতে চলেছে।