মেয়রের পদ ছাড়ছেন গৌতম দেব! শিলিগুড়ি পুরনিগমও কি হাতছাড়া হচ্ছে তৃণমূলের?

শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন গৌতম দেব। ইতিমধ্যেই তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন এবং শুক্রবারই প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন তিনি। সম্প্রতি গৌতম দেবকে দলের দার্জিলিং জেলা কমিটির (সমতল) চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। দলীয় সংগঠনের দিকে তাঁকে আরও বেশি নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। মনে করা হচ্ছে, সেই সাংগঠনিক দায়িত্ব নিবিড়ভাবে পালনের উদ্দেশ্যেই তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত।
দলের অন্দরে মতভেদ ও প্রশাসনিক প্রভাব
পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার পুরনিগমের মেয়র পারিষদদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন গৌতম দেব। তবে তাঁর এই সিদ্ধান্তে মেয়র পারিষদদের মধ্যে স্পষ্ট মতানৈক্য দেখা দেয়। শিলিগুড়ি পুরবোর্ডের মেয়াদ এখনও এক বছরের বেশি বাকি থাকায় অনেক মেয়র পারিষদই এখনই ইস্তফা দেওয়ার পক্ষে নন। ফলে দলের অন্দরে আড়াআড়ি বিভাজন তৈরি হয়েছে। তা সত্ত্বেও গৌতম দেব তাঁর ইস্তফার সিদ্ধান্তে অনড়। তিনি পদত্যাগ করলে নতুন কাউকে মেয়র করে পুনরায় বোর্ড গঠনের সম্ভাবনা প্রায় নেই। এর ফলে তৃণমূলের হাত থেকে শিলিগুড়ি পুরনিগমের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যাওয়ার প্রবল শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উত্তরে অস্তিত্ব সংকটে তৃণমূল
গৌতম দেবের এই ইস্তফা এবং পুরনিগম হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনার রাজনৈতিক তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। বিধানসভা নির্বাচনে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার-সহ গোটা উত্তরবঙ্গেই ব্যাপক ভরাডুবির মুখে পড়েছে শাসকদল। সিতাইয়ের জয়ী তৃণমূল বিধায়ক থেকে শুরু করে একাধিক সাংসদ বর্তমানে বিদ্রোহী শিবিরে অবস্থান করছেন। এই ডামাডোলের পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি পুরনিগমই ছিল উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের কার্যত শেষ সম্বল। ২০১১ ও ২০১৬ সালে রাজ্যের মন্ত্রী থাকা গৌতম দেব ২০২১ এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হলেও, ২০২২ সালে তাঁর নেতৃত্বেই শিলিগুড়ি পুরনিগম দখল করেছিল তৃণমূল। এবার সেই পুরনিগমও হাতছাড়া হলে উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রে তৃণমূল কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।