ট্রাম্পের চরম চাপেই চুক্তি স্বাক্ষর, শান্তিপ্রক্রিয়ার মাঝেই বিস্ফোরক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই

ট্রাম্পের চরম চাপেই চুক্তি স্বাক্ষর, শান্তিপ্রক্রিয়ার মাঝেই বিস্ফোরক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই

বহু টালবাহানা এবং দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা তীব্র সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বাক্ষরিত হয়েছে ঐতিহাসিক আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি। তবে এই সমঝোতার রেশ কাটতে না কাটতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র নিশানা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। চুক্তি স্বাক্ষরের পর নিজের প্রথম বিবৃতিতে খামেনেই দাবি করেছেন, তিনি প্রাথমিকভাবে আমেরিকার দেওয়া শর্তে রাজি ছিলেন না, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রবল চাপ এবং মরিয়া মনোভাবের কারণেই শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে। দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান এবং ইরানের নিরাপত্তা বিষয়ক সর্বোচ্চ কমিটির সবুজ সংকেত মেলার পরই তিনি এতে সম্মতি দেন।

খামেনেইর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পাশাপাশি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া নিয়েও কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে সমঝোতা পত্রে সিলমোহর পড়ে যায়। ফলে জেনেভার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের পাঠানো খসড়াতে ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রক সম্মতি ও স্বাক্ষর প্রদান করেছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ও তেলের বাজারে সুদিন

এই শান্তিচুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক মহলে বড়সড় স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ রুদ্ধ হয়ে পড়েছিল, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেয় এবং বিশ্ব অর্থনীতির চাকা শ্লথ হয়ে পড়ে। ভারতের বাজারেও পৌঁছে গিয়েছিল এই যুদ্ধের আঁচ। চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ায় অবসান ঘটতে চলেছে বৈশ্বিক তেল সংকটের। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব অর্থনীতির স্থবিরতা কেটে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

চুক্তির ১৪টি শর্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে মোট ১৪টি শর্তের উপর ভিত্তি করে এই সমঝোতা স্মারক বা মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, ইরান ও লেবাননসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ হবে এবং ইজরায়েল ও আমেরিকা এই অঞ্চলে নতুন করে কোনো যুদ্ধ না হওয়ার গ্যারান্টি দেবে। এছাড়া আমেরিকার পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের জাহাজের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বাজেয়াপ্ত হওয়া ২৪ মিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এর বিনিময়ে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *