ইপিএফের সুদে অর্থমন্ত্রকের সবুজ সংকেত, চলতি মাসেই টাকা পাচ্ছেন ৭ কোটি গ্রাহক!

দেশের প্রায় ৭ কোটি চাকরিজীবীর জন্য বড় সুখবর নিয়ে এল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। চলতি মাসেই কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফের সুদের টাকা গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে জমা হতে চলেছে। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনের (ইপিএফও) সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা সেন্ট্রাল বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (সিবিটি) প্রস্তাবে অবশেষে সবুজ সংকেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। এর ফলে ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষের জন্য পূর্বনির্ধারিত ৮.২৫ শতাংশ হারেই সুদ পেতে চলেছেন গ্রাহকেরা। এই নিয়ে টানা তিন বছর ইপিএফের সুদের হার একই রইল।
সুদের হারের পরিসংখ্যান ও প্রেক্ষাপট
তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ বছর ধরে ইপিএফের সুদের হারে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। এর আগে ২০২৪ সালে সুদের হার সামান্য বাড়িয়ে ৮.১৫ শতাংশ থেকে ৮.২৫ শতাংশ করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক ইতিহাসে ইপিএফের সুদের হারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছিল ২০২২ সালের মার্চ মাসে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে যেখানে সুদের হার ছিল ৮.৫০ শতাংশ, সেখানে ২০২১-২২ বর্ষে তা এক ধাক্কায় কমিয়ে ৮.১০ শতাংশ করা হয়েছিল, যা ছিল গত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ১৯৭৭-৭৮ অর্থবর্ষে সুদের হার ছিল ৮ শতাংশ। পরবর্তীতে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে নামমাত্র সুদ বাড়ানো হলেও, বিগত তিন বছর ধরে তা একই জায়গায় স্থির রয়েছে।
অপরিবর্তিত থাকার কারণ ও আর্থিক প্রভাব
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, চলতি বছর সুদের হার সামান্য বাড়িয়ে ৮.৩০ শতাংশ করার একটি প্রাথমিক ভাবনা সিবিটি-র ছিল। তবে বাজার পরিস্থিতি আশানুরূপ না হওয়ায় এবং বাজার থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে হয়। বর্তমানের ৮.২৫ শতাংশ সুদের হার বজায় রাখার কারণে ইপিএফও-কে চলতি অর্থবর্ষে প্রায় ৯৪৪ কোটি টাকা লোকসানের মুখ দেখতে হবে। তবে এই লোকসান গ্রাহকদের সঞ্চয়ে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। কারণ, বিগত বছরে ইপিএফও পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি লভ্যাংশ বা উদ্বৃত্ত তহবিল অর্জন করেছে, যা দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের সম্ভাব্য আর্থিক ঘাটতি অনায়াসেই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। ফলে লোকসান সত্ত্বেও গ্রাহকদের সুদের টাকা নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে।