সিঁদুরে রাঙা সিঁথি, পরিবারের আপত্তিতে মঙ্গলকোটে নাবালক যুগলের চরম পরিণতি!

পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থানার কুঁদো গ্রামে এক নাবালক ও নাবালিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতদের নাম বিক্রম মাজি (১৬) ও নন্দিনী মাজি (১৪)। একই পাড়ার বাসিন্দা ওই দুই কিশোর-কিশোরীর মধ্যে গড়ে ওঠা ভালোবাসার সম্পর্ক পরিবার মেনে না নেওয়াতেই এই চরম সিদ্ধান্ত বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। উদ্ধার হওয়া নাবালিকার সিঁথিতে টাটকা সিঁদুর দেখা গেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে মৃত্যুর আগে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নন্দিনীর সঙ্গে বছর দুয়েক আগে পড়াশোনা ছেড়ে রাজমিস্ত্রির কাজে যুক্ত হওয়া বিক্রমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি দুই পরিবার জানার পর থেকেই তীব্র আপত্তি জানায়, কারণ দুজনেই অপ্রাপ্তবয়স্ক। বৃহস্পতিবার রাতে নিজ নিজ ঘরে ঘুমাতে গেলেও গভীর রাতে নন্দিনী গোপনে বিক্রমের বাড়িতে চলে যায়। ভোরে বিক্রমের মা ছেলেকে ডাকতে গিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে যুগলের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে দেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
অপরিণত বয়সের জেদ ও সামাজিক টানাপোড়েন
এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে মূলত উঠে আসছে অপ্রাপ্তবয়স্কদের আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত এবং পরিবারের কঠোর অবস্থান। গ্রামীণ এলাকায় নাবালক-নাবালিকাদের প্রেমের সম্পর্ককে সমাজ ও পরিবার সহজে মেনে নেয় না, যার ফলে এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি হয়। আইনি ও সামাজিক বাধার মুখে পড়ে নিজেদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে না পারার চরম হতাশাই এই যুগলকে আত্মহননের পথে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সমাজতাত্ত্বিকরা।
এলাকায় শোকের ছায়া ও আইনি পদক্ষেপ
এই ঘটনায় দুই পরিবারই এখন শোকে ভেঙে পড়েছে। মঙ্গলকোট থানার পুলিশ ইতিমধ্যে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে একটি অস্বাভাভিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। একই কাপড়ে দুই নাবালক-নাবালিকার এই মর্মান্তিক পরিণতি পুরো গ্রামে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাউন্সেলিং ও পারিবারিক বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে।