প্রবল বৃষ্টিতে ভাসছে তিলোত্তমা, উত্তরে ধস আর বন্যায় বিচ্ছিন্ন শিলিগুড়ি-মিরিক!

টানা বৃষ্টিতে ফের চরম বিপর্যয়ের মুখে রাজ্য। একদিকে টানা বর্ষণে উত্তরবঙ্গে নেমেছে ধস, ভেঙেছে সেতু। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিতে কার্যত ভাসছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। সব মিলিয়ে জোড়া দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন।
বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ ও বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ
উত্তরবঙ্গে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির জেরে ফুঁসছে পাহাড়ের নদীগুলো। জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছে বালাসনের ওপর থাকা দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু। এর ফলে সড়কপথে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে শিলিগুড়ি ও মিরিকের যোগাযোগ ব্যবস্থা। ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন কার্শিয়াং-সহ একাধিক জায়গায় বড়সড় ধস নেমেছে। উপড়ে পড়ছে গাছপালা, একাধিক এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা। গত বছরের অক্টোবরের ভয়াবহ দুর্যোগের ক্ষত শুকোনোর আগেই আট মাসের মাথায় ফের এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পাহাড়বাসী। বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করতে যাওয়া আটকে পড়া পর্যটকদের সুখিয়াপোখরি হয়ে শিলিগুড়িতে নামার পথ ধরতে হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার যা পরিস্থিতি, তাতে ওই বিকল্প রাস্তাও কতক্ষণ নিরাপদ থাকবে তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরে এখনও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
দক্ষিণেও দুর্যোগের ভ্রুকুটি
উত্তরের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গেও দুর্যোগের ছবিটা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কলকাতা-সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টিপাত। দোসর হয়েছে ঝোড়ো হাওয়া। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। শনিবার থেকে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হওয়ার সম্ভাবনা। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বজ্রপাতের চরম আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি হুগলি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং উত্তর চব্বিশ পরগনাতেও ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন হওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।