আষাঢ়ের শুরুতেই উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের থাবা, ধস ও বন্যার আশঙ্কায় কাঁপছে পাহাড়

আষাঢ়ের শুরুতেই উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের থাবা, ধস ও বন্যার আশঙ্কায় কাঁপছে পাহাড়

আষাঢ়ের শুরুতেই রাতভর টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গ। পাহাড়ি এলাকায় অবিরাম বর্ষণের জেরে তিস্তা নদীর জলস্তর হঠাৎ করে বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেচ দফতর ইতিমধ্যে দোমহনী থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত তিস্তা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। শুক্রবার সকাল থেকেই নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত এই অতিভারী বৃষ্টিপাত বজায় থাকবে, যার ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়ে বন্যার রূপ নিতে পারে।

বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনজীবন বিপর্যস্ত

টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় একাধিক ধস নেমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। ধসের কারণে ১০ নং জাতীয় সড়ক (NH10) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিলিগুড়ি ও গ্যাংটকের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এর পাশাপাশি ১১০ নং জাতীয় সড়কও বন্ধ রয়েছে। কার্শিয়াং থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত তিন লেনের সড়ক ভেঙে পড়েছে এবং দুধিয়া সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগও প্রায় বন্ধের মুখে। সিকিম, ভুটান ও দার্জিলিং পাহাড়ে ক্রমাগত বৃষ্টি হতে থাকায় তিস্তা ছাড়াও উত্তরবঙ্গের অন্যান্য পাহাড়ি নদীগুলোর জলস্তরও দ্রুত বাড়ছে।

জেলাভিত্তিক বৃষ্টির পূর্বাভাস

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলবে। আজ ১৯ জুন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী থেকে অতি ভারী (০৭-২০ সেমি) বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলায় ভারী বৃষ্টি এবং মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

আগামীকাল ২০ জুন, শনিবারও দুর্যোগ থেকে রেহাই মিলছে না। আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার কিছু অংশে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পঙেও অতিভারী বৃষ্টি জারি থাকবে। এর ফলে পার্বত্য অঞ্চলে নতুন করে ধস নামার এবং সমতলের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *