মাটি সঙ্কটে উধাও চায়ের ভাঁড়, সঙ্কটে কলকাতার চিরচেনা আড্ডা!

বাঙালির চা-সংস্কৃতি ও রাস্তার ধারের আড্ডার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ মাটির ভাঁড় আজ তীব্র সঙ্কটের মুখে। গত প্রায় এক মাস ধরে কলকাতার চায়ের দোকানগুলোতে মাটির ভাঁড়ের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভাঁড় না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক বিক্রেতাই কাগজের কাপে চা পরিবেশন করছেন, যার ফলে শহরের চা-প্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা ও অসন্তোষ।
সঙ্কটের নেপথ্য কারণ
ভাঁড় প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের দাবি, এই আকালের মূল কারণ হলো ভাঁড় তৈরির মাটির তীব্র অভাব। ওয়েস্ট বেঙ্গল আর্থ পট মেকার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এতদিন ডায়মন্ড হারবার, কুলতলি ও হাওড়ার মতো এলাকা থেকে মাটি সংগ্রহ করা হলেও বর্তমানে তাতে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রাইয়ের বক্তব্য থেকে জানা যায়, আগে অনেক ক্ষেত্রে বিনা অনুমতিতেই মাটি তোলা হতো। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়ায় কড়া সরকারি নিয়ন্ত্রণ আসায় মাটি সরবরাহ থমকে গিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভাঁড় উৎপাদনের ওপর।
ক্ষতির মুখে মৃৎশিল্প ও চা-বিক্রেতারা
মাটির এই আকালের কারণে ভাঁড়ের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিক্রেতাদের হিসেব অনুযায়ী, আগে ১০০টি মাটির ভাঁড় কিনতে খরচ হতো ১২০ থেকে ১২৫ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। চড়া দাম দিয়েও অনেক সময় পর্যাপ্ত ভাঁড় জোগান পাওয়া যাচ্ছে না। এই সঙ্কটের প্রভাব শুধু চা-বিক্রেতাদের ওপরই পড়েনি, মাটির অভাবে প্রদীপ ও অন্যান্য সামগ্রী প্রস্তুতকারকেরাও বড়সড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সামনেই উৎসবের মরশুম থাকায় মৃৎশিল্পীদের মধ্যে এই পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে বিক্রেতা ও প্রস্তুতকারক উভয় পক্ষই প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই জটিলতা কাটানোর বিষয়ে আশাবাদী।