আন্তর্জাতিক বাজারে কমছে ক্রুড অয়েল, এখনই কি সস্তা হবে পেট্রোল ও ডিজেল

বিশ্ব বাজারে লাগাতার কমছে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের দাম। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক চুক্তির পর হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হতেই ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ৮০ ডলারের নীচে নেমে এসেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে একসময় যা ১২০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল, তা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এই পতন সত্ত্বেও দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে এখনই স্বস্তি মেলার সম্ভাবনা কম। ভারতের বাজারে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম এখনই কমছে না বলে স্পষ্ট সংকেত মিলেছে।
ধীরগতির সরবরাহ এবং পরিশোধন প্রক্রিয়া
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে তার প্রভাব পড়তে কিছুটা সময় লাগবে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে এই তেল ভারতে আসতে এবং পরবর্তীকালে তা শোধনাগারে পরিশোধন করতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। ফলে বিশ্ব বাজারের দাম হ্রাসের সুবিধা সরাসরি ও তৎক্ষণাৎ দেশের উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়। বর্তমানে তেলের দাম কিছুটা বাড়তির দিকে থাকলেও তা দ্রুত কমার কোনো লক্ষণ নেই।
তেল সংস্থাগুলির লোকসান ও অর্থনৈতিক প্রভাব
বিগত দিনে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার কারণে দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দেশের বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে ভারত সরকারকে প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকার লোকসান সহ্য করতে হয়েছে। এই সংকটের সময়ে কোনো রাজ্য সরকারই জ্বালানি তেলের ওপর থেকে কর বা ট্যাক্স কমায়নি, যা চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। ফলে সংস্থাগুলির পূর্বের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
তবে অপরিশোধিত তেলের এই মূল্যহ্রাস ভারতীয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা আনছে। আর্থিক সমীক্ষা সংস্থা আইসিআইসিআই সিকিউরিটিজের রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০ থেকে ১৫ ডলার কমলে ভারতের মাসিক আমদানি বিল প্রায় ১.৫ থেকে ১.৮ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পাবে। এর ফলে ওএনজিসি এবং অয়েল ইন্ডিয়ার মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি আগামী দুই বছরে ভালো মুনাফার মুখ দেখবে। দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে স্বস্তি এলেও, খুচরো বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমার জন্য সাধারণ মানুষকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।