‘৯০ শতাংশ বিধায়কের মন ওদিকে নেই’ শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পরেই কুণালের চাঞ্চল্যকর দাবি!

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালতের স্বীকৃতি দেওয়ার দিনেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষ-সহ তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। এই বৈঠকের পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, বিদ্রোহী শিবিরে যাওয়া ঋতব্রত অনুগামী সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই মন থেকে ওই পক্ষে নেই।
চাপের মুখে শিবির বদল
কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, বহু বিধায়ক চাপে পড়ে বা আইনি ফাঁদে আটকে বিদ্রোহী শিবিরে সই করতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি তাঁদের পুলিশি নিরাপত্তার মতো নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে আটকে রাখা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এই দলবদলের কারণ হিসেবে মূলত ভয়ভীতি প্রদর্শনকেই তুলে ধরেছেন তিনি। কুণালের দাবি, এই বিধায়কদের অনেকেই এলাকায় ঢুকতে পারছেন না এবং সাধারণ মানুষের কাছে ‘গদ্দার’ বা ‘বেইমান’ তকমা পাচ্ছেন। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কারণে তাঁরা পুনরায় মমতাপন্থী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
রাজনৈতিক সমীকরণে সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ভাঙাগড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কুণাল ঘোষ বিদ্রোহী বিধায়কদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন যে, তাঁরা চাইলে মাথা উঁচু করে প্রকৃত বিরোধী দলে থেকে সরকারের সঙ্গে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজে অংশ নিতে পারেন। আদালতের রায়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাময়িক স্বস্তি পেলেও, কুণালের এই দাবি আগামী দিনে বিদ্রোহী শিবিরে বড়সড় ফাটল ধরার সম্ভাবনা উসকে দিচ্ছে। যদি সত্যিই এই বিপুল সংখ্যক বিধায়কের মোহভঙ্গ হয় এবং তাঁরা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেন, তবে বিধানসভার অন্দরে বিরোধী শিবিরের সমীকরণ এবং আইনি লড়াই সম্পূর্ণ নতুন মোড় নিতে পারে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই সৌজন্যমূলক বৈঠক প্রশাসনিক স্তরে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখার একটি কৌশলগত বার্তাও বহন করছে।