টাকার বখরা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে ছুঁচোর কীর্তন, বিস্ফোরক অধীর চৌধুরী
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ভাঙন প্রকাশ্যে এসেছে। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ইতিমধ্যে ৫৮ জন বিদ্রোহী হয়ে নতুন একটি ‘ব্লক’ তৈরি করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তৃণমূলের এই নজিরবিহীন সংকট এবং একের পর এক নেতার দল ছাড়ার হিড়িকের নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, এই ভাঙন আদর্শগত কোনো লড়াই নয়, বরং লুঠের টাকার বখরা পাওয়ার দখলদারি।
আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির অভিযোগ
বৃহস্পতিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী সরাসরি আক্রমণ শানান তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের অন্দরে যে চরম বিবাদ চলছে, তার মূল কারণ হলো লুঠ এবং ধান্দার টাকার মালিকানা। একটি আঞ্চলিক দল হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলের তহবিলে বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে এলো, তা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি তুলেছেন তিনি। বহরমপুর ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন পুরসভার দুর্নীতি এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নামে টাকা তোলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, এক নেতার কোটি কোটি টাকা দুবাইতেও পাচার হয়েছে। অধীর চৌধুরীর মতে, এই বিপুল পরিমাণ টাকার মোহ এবং ক্ষমতার ভাগাভাগি ঘিরেই দলের নেতারা এখন পরস্পরের সঙ্গে মারামারিতে লিপ্ত হয়েছেন।
তহবিল রক্ষা ও রাজনৈতিক নৈতিকতার সংকট
দলের অন্দরে ভাঙনের জেরে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়ে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে চিঠি দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। দলীয় নেতৃত্ব আশঙ্কা করছেন যে, পরিস্থিতি যেভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে, তাতে দলের বিশাল তহবিল বেহাত হয়ে যেতে পারে। এই আর্থিক অচলাবস্থার মাঝেই বিদ্রোহী নেতাদের কড়া সমালোচনা করেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি মনে করিয়ে দেন, যাঁরা আজ বিদ্রোহ করছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই মমতা ব্যানার্জির নাম ভাঙিয়ে এবং তৃণমূলের প্রতীকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন। রাজনৈতিক নৈতিকতা বজায় রেখে দল ভাঙানোর খেলা বন্ধ করার পাশাপাশি, বিদ্রোহীদের ক্ষমতা থাকলে দল ত্যাগ করে একক শক্তিতে জিতে দেখানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এই কংগ্রেস নেতা।