নেতাদের লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে পচা ডিম, উর্দির দাগ এড়াতে পুলিশের অভিনব কৌশল!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেপ্তার হচ্ছেন একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী ও নেতা-কর্মী। আর এই গ্রেপ্তারির সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে অভিনব এক প্রতিবাদ। ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত নেতাদের লক্ষ্য করে ছুড়ছেন পচা ডিম, টমেটো এবং গোবর। ‘ডিম থেরাপি’ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিবাদের লক্ষ্য মূলত রাজনৈতিক নেতারা হলেও, তার বড় মাশুল গুনতে হচ্ছে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের।
পুলিশের গায়ে পচা ডিম ও উর্দির সংকট
অভিযুক্তদের আদালতে পেশ বা তদন্তের কাজে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তার কারণে পুলিশকে একটি মানব-বলয় তৈরি করতে হয়। ক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া পচা ডিম বা টমেটো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে অথবা বলয় ভেদ করে সরাসরি এসে লাগছে পুলিশকর্মীদের খাকি উর্দিতে। ফলে ডিউটির মাঝেই অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের। উর্দিতে পচা ডিমের দুর্গন্ধ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া যেমন কঠিন, তেমনই মাঝপথে বাড়ি গিয়ে পোশাক বদলানোও কার্যত আসাম্ভব।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য পুলিশের অন্দরে এক নতুন প্রবণতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন থানায় এখন অতিরিক্ত খাকি পোশাক মজুত রাখছেন পুলিশকর্মীরা। ডিউটিতে যাওয়ার সময় অনেকেই সঙ্গে করে অন্তত চার থেকে পাঁচ সেট বাড়তি ইউনিফর্ম রাখছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাতিল বা পুরনো উর্দিও আপৎকালীন ব্যবহারের জন্য রেখে দেওয়া হচ্ছে, যাতে পোশাক নোংরা হলেও দ্রুত তা বদলে পুনরায় কর্তব্যে ফেরা যায়।
পচা ডিমের রমরমা বাজার
এই অদ্ভুত পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। ব্যবসায়ীদের একাংশ মজা করে জানাচ্ছেন, বাজারে এখন ভালো ডিমের চেয়ে পচা ডিমের চাহিদা ও দাম বেশি। সম্প্রতি এক বিক্রেতাকে প্রকাশ্যে হাঁক দিয়ে বলতে শোনা গিয়েছে যে, পচা ডিম কুড়ি টাকা এবং ভালো ডিম দশ টাকা! বাস্তবের বাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব সেভাবে না থাকলেও, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ‘ডিম আতঙ্ক’ এখন আর কেবল অভিযুক্ত নেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জনরোষের জেরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি পুলিশ প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজের অন্যতম বড় মাথাব্যথায় পরিণত হয়েছে।