রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পশ্চিমবঙ্গ দিবস ও যোগা দিবসকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি তুঙ্গে হুগলিতে

২১ জুন বিশ্ব যোগা দিবস এবং তার আগে ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন উপলক্ষে সেজে উঠছে হুগলি জেলা। রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই জোড়া কর্মসূচি সফল করতে এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার হুগলি জেলাশাসকের কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি এবং চন্দননগর পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার যাদব। দুই শীর্ষ আধিকারিকই অনুষ্ঠান দুটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সর্বাত্মক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
প্রশাসনিক তৎপরতা ও পুলিশের বিশেষ যোগ শিবির
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২১ জুনের বিশ্ব যোগা দিবসকে কেন্দ্র করে আমজনতার মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে একাধিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের উদ্যোগে গত ৭ জুন থেকেই প্রতিদিন নিয়মিত যোগা অনুশীলনের আয়োজন করা হচ্ছে। পুলিশ লাইনের ময়দানে আয়োজিত এই বিশেষ শিবিরে প্রতিদিন চন্দননগর পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার যাদব নিজে উপস্থিত থাকছেন। এছাড়া ডিসি, এডিসিপি, এসিপি এবং ইন্সপেক্টর থেকে শুরু করে কনস্টেবল পদমর্যাদার প্রায় ৮২১ জন পুলিশ কর্মী প্রতিদিন এই শিবিরে অংশ নিচ্ছেন।
নাগরিকদের অংশগ্রহণ ও অনলাইন রেজিস্ট্রেশন
যোগা দিবসকে গণআন্দোলনে রূপ দিতে জেলার সাধারণ মানুষকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। এই লক্ষ্যে একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে, যেখানে নাগরিকদের নাম নথিভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, এই কর্মসূচির মাধ্যমে অন্তত ১০০০ মানুষকে সরাসরি সুস্থ জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যসচেতনতার এই উদ্যোগে শামিল করা।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
জাতীয় স্তরের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ উৎসবকে কেন্দ্র করে হুগলি জেলায় প্রশাসনিক ও সামাজিক স্তরে ব্যাপক তৎপরতা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের ফলে যেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করা হচ্ছে, তেমনই সরকারি স্তরে সমন্বয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের এই লাগাতার যোগা শিবিরের আয়োজন এবং সাধারণ মানুষকে যুক্ত করার প্রয়াস স্থানীয় স্তরে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি করবে। একইসঙ্গে, পুলিশের এই সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণ আমজনতার মনে সুস্থ জীবনযাত্রার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।