চশমার আড়ালে লুকানো ক্যামেরা এবং টলিপাড়ায় ত্রাসের রাজত্ব, স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে বিস্ফোরক তথ্য আদালতে

চশমার আড়ালে লুকানো ক্যামেরা এবং টলিপাড়ায় ত্রাসের রাজত্ব, স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে বিস্ফোরক তথ্য আদালতে

টলিউডের ক্ষমতার অলিন্দে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারকারী স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে এবার উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। তোলাবাজি ও যৌন হেনস্তার পাশাপাশি এবার তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের বুকে এক নতুন এবং বিস্ফোরক দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ, স্বরূপ এমন একটি বিশেষ চশমা ব্যবহার করতেন যার ভেতরে গোপন ক্যামেরা বসানো ছিল। এই তথ্যের জেরে নিউ আলিপুর থানায় দায়ের হওয়া তোলাবাজির মামলায় তাঁর জেল হেফাজতের আবেদন জানিয়ে তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে পুলিশ।

প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি ও কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম

তদন্তকারীদের দাবি, টলিউডে কাজ পেতে হলে বা কোনও প্রজেক্টে টেকনিশিয়ানদের যুক্ত করতে হলে প্রথমে সেই তালিকা ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে পাঠাতে হত। কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ৫ শতাংশ হারে কমিশন নিতেন বলে আদালতে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল। এর পাশাপাশি কোভিডের সময়ে ফেডারেশনের সংগৃহীত প্রায় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার তহবিল থেকে ৭৫ লক্ষ টাকার কোনও স্পষ্ট হিসেব পাওয়া যায়নি বলে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সূত্র ধরে দাবি করেছে সরকারি পক্ষ। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে, যা এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নতুন অভিযোগ ও ক্যামেরা-চশমার রহস্য

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গত ৪ জুনের গ্রেফতারির পর ১৪ জুন নিউ আলিপুরে আরও এক তরুণী অভিনেত্রী নতুন করে তোলাবাজি ও যৌন হয়রানির মামলা করেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, ফুড কার্ট ব্যবসার অনুমতি ও সহযোগিতার বিনিময়ে স্বরূপ তাঁর কাছে ৮০ লক্ষ টাকা এবং দুর্গাপুজোর চাঁদা বাবদ মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। পরবর্তীতে তাঁকে ক্লাবে একা দেখা করার জন্য চাপও দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার আদালতের শুনানিতে অভিযোগকারীদের আইনজীবী দাবি করেন, নারীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে অপব্যবহার করা হত এবং সেই গোপন মুহূর্তের ছবি ধারণ করতেই চশমায় ফিট করা ক্যামেরা ব্যবহার করা হত। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে এই নিয়ে তীব্র আতঙ্ক কাজ করত বলেও আদালতে জানানো হয়।

ঘটনার সূত্রপাত মূলত ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ আদায়ের মানসিকতা থেকে। চশমায় ক্যামেরা ব্যবহারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির অনৈতিক প্রয়োগের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল ও কোণঠাসা করার চেষ্টা চালানো হত বলে প্রাথমিক ধারণায় উঠে এসেছে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে টলিউডের অভ্যন্তরীণ কাজের পরিবেশ ও টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে স্বরূপ বিশ্বাসের আইনজীবীর দাবি, এই সমস্ত অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই মামলা সাজানো হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আলিপুরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালত আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত স্বরূপকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *