মোদী ক্যাবিনেটে এবার পূর্ণ মন্ত্রী চাই বাংলার, ৩২ সাংসদের শক্তিতে জোরালো দাবি!

মোদী ক্যাবিনেটে এবার পূর্ণ মন্ত্রী চাই বাংলার, ৩২ সাংসদের শক্তিতে জোরালো দাবি!

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে দিল্লির বুকে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিজেপির নিজস্ব ১২ জন এবং তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে নিয়ে লোকসভায় এখন ৩২ জনের এক শক্তিশালী ‘বেঙ্গল ব্লক’ গঠন করেছে এনডিএ। পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও বিজেপির আসন সংখ্যা আরও চারটি বাড়তে চলেছে। সংসদে মোদী সরকারকে এই বড় স্বস্তি দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই দাবি উঠেছে যে এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে অন্তত দুজন পূর্ণ বা ক্যাবিনেট মন্ত্রী নিয়োগ করা উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভার এই বিপুল সংখ্যার নিরিখে এটি এখন আর কোনও করুণা নয়, বরং বাংলার ন্যায্য রাজনৈতিক অধিকার।

অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলার অবস্থান

দেশের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের তুলনা করলেই এই দাবির যৌক্তিকতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মহারাষ্ট্র থেকে এনডিএ-র মাত্র ১৭ জন সাংসদ থাকা সত্ত্বেও মোদী মন্ত্রিসভায় সেখান থেকে দুজন ক্যাবিনেট এবং চারজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। আসাম, ওড়িশা ও বিহার থেকেও পূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর জমানায় পশ্চিমবঙ্গ আজ পর্যন্ত কোনও পূর্ণ মন্ত্রী পায়নি, পেয়েছে কেবল প্রতিমন্ত্রী। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রীর পদটি অনেকটাই আলঙ্কারিক। সাধারণত মন্ত্রিসভার মূল বৈঠকে তাঁদের ডাক পড়ে না এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতাও সীমিত থাকে। ফলে বাংলার দাবিদাওয়া জোরালোভাবে তুলে ধরা বা বড় কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্প সরাসরি রাজ্যে আনার ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রীদের ভূমিকা কার্যত নগণ্য থেকে যায়।

অতীতের সাফল্য ও সম্ভাব্য প্রভাব

অতীতের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, যখনই বাংলা থেকে কোনও নেতা কেন্দ্রে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন, রাজ্যবাসী তার সরাসরি সুফল পেয়েছে। গনিখান চৌধুরী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি বা প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা ক্যাবিনেট মন্ত্রী থাকার সুবাদেই রাজ্যে একাধিক বড় প্রকল্প, রেলের উন্নয়ন, এইমস হাসপাতাল বা ফোর-লেন হাইওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি অনুমোদন করিয়ে আনতে পেরেছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজ্যে বিজেপির ২০৮ জন বিধায়ক ও লোকসভায় ৩২ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে। এই নয়া সমীকরণে বাংলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং রাজনৈতিক বার্তা দিতে মোদী-শাহের ক্যাবিনেটে এবার বাংলার জন্য পূর্ণ মন্ত্রিত্বের দরজা খোলা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *