ভিনরাজ্যে পালিয়েও শেষরক্ষা হলো না রামেন্দুর! গ্রেপ্তার তারকেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক

ভিনরাজ্যে পালিয়েও শেষরক্ষা হলো না রামেন্দুর! গ্রেপ্তার তারকেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তারকেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায়। গ্রেপ্তার এড়াতে সুদূর কর্ণাটকে গা ঢাকা দিলেও শেষরক্ষা হয়নি তাঁর। অবশেষে তারকেশ্বর থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল দক্ষিণের ওই রাজ্য থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত এই হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি এবং সরকারি ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি ত্রাণ চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

রামেন্দু সিংহ রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের সূত্রপাত মূলত তাঁর নিজের এলাকা থেকেই। ধানিয়াখালির কোটালপুরে নিজের বাড়ির পাশেই একটি বিএড কলেজ তৈরি করেছিলেন এই প্রাক্তন বিধায়ক। গত ১১ জুন ওই কলেজে আচমকা তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়, যা বেআইনিভাবে মজুত করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও হুমকির লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে তিনি এলাকা ছেড়ে পালান। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে কর্ণাটকে তাঁর গোপন ডেরার সন্ধান পায়।

পালাবদলের পর ধারাবাহিক ধরপাকড় ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই গ্রেপ্তারি রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রামেন্দু সিংহ রায় কেবল তারকেশ্বরের বিধায়কই ছিলেন না, তিনি আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি হিসেবেও প্রভাবশালী ছিলেন। এর আগে আরামবাগ পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান স্বপন নন্দীকেও কেরালা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল হুগলি গ্রামীণ পুলিশ। বিশ্লেষকদের মতে, পালাবদলের পর রাজ্যের প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগগুলি উঠছে, এই জোড়া গ্রেপ্তারি তারই ধারাবাহিক পদক্ষেপ। ট্রানজিট রিমান্ডে রামেন্দুকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার পর পুলিশি জেরায় দুর্নীতির মূল শিকড় ও আরও প্রভাবশালীদের নাম প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *