তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুর, রণক্ষেত্র বাঁকুড়া!

বাঁকুড়ার ঘুটগোড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে স্থানীয় জনতার একাংশের নজিরবিহীন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা প্রধানের বাড়ির উঠোনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও আকস্মিক হামলা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ ঘুটগোড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গণেশ মণ্ডলের বাড়ির সামনে জড়ো হতে শুরু করেন এলাকাবাসী। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই জমায়েত হিংসাত্মক রূপ নেয়। উত্তেজিত জনতা বাড়ির প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর শুরু হয় ব্যাপক তাণ্ডব। জানলা-দরজার কাচ ভাঙচুর করার পাশাপাশি বাড়ির উঠোনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় প্রধানের পরিবারের সদস্যরা বাড়ির ভেতরেই আটকে ছিলেন এবং তাঁদের চোখের সামনেই এই তাণ্ডব চলে।
দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বণ্টন, আবাস যোজনা ও গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণসহ একাধিক উন্নয়নমূলক কাজে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠছিল। এই সব বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে জমানো ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই হামলায়। রাজনৈতিক মহলে আক্রান্ত পঞ্চায়েত প্রধান গণেশ মণ্ডল প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অলক মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিরোধীদের দাবি, পঞ্চায়েতের অপশাসনের বিরুদ্ধেই মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ। অন্যদিকে, প্রধানের অনুগামীদের পাল্টা দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পরিকল্পিত হামলা।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
হামলার পর পঞ্চায়েত প্রধান গণেশ মণ্ডল একে সম্পূর্ণ বেআইনি আখ্যা দিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করে কেন এই হামলা চালানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এলাকায় কড়া পুলিশি নজরদারি চালানো হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে এবং আসল কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।