বাগনানে বিজেপি কর্মী খুনে কড়া পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর, ৯ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ!

হাওড়ার বাগনানে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে-র খুনের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই ঘটনার তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে নিহত কর্মীর পরিবারকে মোট ৯ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং আহতদের যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা করেছে রাজ্য।
নৃশংস হামলার বিবরণ ও কারণ
বুধবার গভীর রাতে বাগনানের সন্তোষপুর এলাকায় একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে যাওয়ার পথে প্রশান্ত দে সহ কয়েকজন বিজেপি কর্মীর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা লাঠি ও রড দিয়ে তাঁদের বেধড়ক মারধর করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বাগনানের ৫ নম্বর মণ্ডলের ১৯৭ নম্বর বুথের সহ-সভাপতি প্রশান্ত দে-র। গুরুতর জখম হন আরও তিনজন, যাঁরা বর্তমানে কলকাতার একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন। খুনের পর অভিযুক্তরা নিহতের পরিবারকে ফোনে হত্যার কথা দম্ভের সঙ্গে জানায়। এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং শত্রুতার জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রশাসন কড়া হাতে কাজ করছে, তাই সাধারণ মানুষকে কোনওভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সিআইডি তদন্তের পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ৪ লক্ষ এবং মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া নিহতের স্ত্রী সোমা চাইলে তাঁকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের এই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে রাজনৈতিক হিংসা দমনে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি স্পষ্ট হয়েছে, যা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।