থানায় হামলার মাশুল, সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি এবার রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় বিপাকে ফলতার ‘পুষ্পা’ বাহিনী

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতা থানা এলাকায় পুশপাকৃতির অপরাধচক্রের তাণ্ডব ও থানায় হামলার ঘটনায় এবার বেনজির কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। ধৃতদের বিরুদ্ধে সাধারণ ধারার পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের ধারা। একই সঙ্গে হামলাকারীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সেই অর্থ দিয়ে সরকারি ও জনসাধারণের ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয় প্রশাসন।
থানা আক্রমণের ছক ও পুলিশের তড়িৎ পদক্ষেপ
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার, যখন কুখ্যাত অপরাধী জাহাঙ্গিরকে পুলিশি হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালায় তার অনুগামীরা। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী ফলতা থানার দিকে এগোতে থাকে এবং শতল কলসায় এলাকায় লাগাতার বিক্ষোভ দেখায়। থানা থেকে আসামিকে অপহরণের এই গভীর চক্রান্তের কথা আঁচ করতে পেরেই দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী। পুলিশের তাড়া খেয়ে হামলাকারীরা প্রাণভয়ে স্থানীয় পুকুরে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হয়, যার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হলেও শেষ পর্যন্ত বড়সড় নাশকতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
কঠোর আইনি বার্তা এবং এর প্রভাব
এই তাণ্ডবের ঘটনায় পুলিশের তরফে মোট ৩টি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল ভিডিও দেখে এ পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ১২ জন পুলিশি হেফাজতে এবং ১৩ জন জেল হেফাজতে রয়েছেন। নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে যাঁদেরই দেখা গেছে, তাঁদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।
প্রশাসনের এই নজিরবিহীন কঠোর অবস্থানের ফলে এলাকায় অপরাধমূলক সিন্ডিকেট ও মাফিয়াতন্ত্রের ওপর বড়সড় ধাক্কা লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের মতো আর্থিক দণ্ড ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার কারণে ভবিষ্যতে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট বা থানায় চড়াও হওয়ার মতো অপরাধ প্রবণতা অনেকটাই হ্রাস পাবে। ফলতার জনকল্যাণ শিবির থেকে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গুণ্ডামি বা জমিলুট রুখতে রাজ্য সরকার যে কোনো মাফিয়া বা ডনের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত, এই বার্তা এখন তৃণমূল স্তরে পৌঁছাতে শুরু করেছে।