অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে উপচে পড়া আবেদন, জুলাইয়ের শুরুতেই কি অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা?

রাজ্যজুড়ে চারদিন ব্যাপী আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া মিলেছে। সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এ এবার ৮ লক্ষেরও বেশি নতুন আবেদন জমা পড়েছে। বিপুল এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ছিল, কবে মিলবে এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা? অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে উপভোক্তাদের টাকা পাওয়ার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী মেলাগুলিতে সাধারণ মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতে আবারও এই ধরণের শিবিরের আয়োজন করা হবে।
জুলাইয়ের প্রথম দিনেই অ্যাকাউন্টে টাকা
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকেই তথ্য যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সফল হওয়া যোগ্য আবেদনকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো শুরু হবে। শুধু নতুন আবেদনই নয়, এর আগে আবেদন করা প্রায় ১ কোটি ৫ লক্ষ উপভোক্তার নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে। মূলত সাধারণ মানুষের বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখেই প্রথমে নির্ধারিত তিনদিনের এই শিবিরের মেয়াদ আরও একদিন বাড়ানো হয়েছিল। চারদিনের এই মেগা শিবিরে সব প্রকল্প মিলিয়ে মোট ৫৮ লক্ষের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ২২ লক্ষ ২৩ হাজার ৯৭০টি এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ৮ লক্ষ ১৫ হাজার ৩৫৯টি আবেদন জমা পড়েছে।
আবেদনের ঢল ও সামাজিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি শিবিরের মাধ্যমে সরাসরি আবেদন করার সুযোগ তৈরি হওয়া এবং তৃণমূল স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধিই এই বিপুল সাড়ার মূল কারণ। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে এই ধরণের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। জুলাই মাস থেকে নতুন ও পুরনো মিলিয়ে কোটি কোটি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছানোর ফলে গ্রামীণ ও শহরতলির বাজারে নগদ অর্থের জোগান বাড়বে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা রাজ্যের সার্বিক অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।