আট মাসেই ভাঙল দুধিয়া সেতু, দুর্নীতির খোঁজে কড়া তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

বর্ষার প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই বিপর্যয়ের মুখে উত্তরবঙ্গ। মাত্র আট মাস আগে তৈরি হওয়া দুধিয়া সেতু তিস্তা ও পার্বত্য অঞ্চলের প্রবল জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। এর ফলে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তৈরি এই সেতুর এত দ্রুত ভেঙে পড়া নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্মাণকাজের গুণমান এবং দুর্নীতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শুক্রবার নবান্নে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার পেছনে কোনো ‘কাটমানি’ বা আর্থিক দুর্নীতি রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে কড়া তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পাহাড়, নবান্নে জরুরি বৈঠক
সেতু বিপর্যয়ের জেরে মিরিক ও শিলিগুড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো যুদ্ধকালীন তৎপরতায় একটি অস্থায়ী সেতু তৈরি করে দ্রুত যাতায়াত স্বাভাবিক করা। নবান্নের কন্ট্রোলরুম থেকে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর চব্বিশ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে এবং সেচ দপ্তরকে সতর্ক করা হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ রাজু বিস্তা নিজে উপদ্রুত এলাকায় উপস্থিত থেকে উদ্ধার ও তদারকি কাজ চালাচ্ছেন। বিপজ্জনক ও ধসপ্রবণ এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ও ধস নামার আশঙ্কা
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি এখনই স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ নেই। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িসহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই লেবং কার্টরোড এবং মিরিকের গয়াবাড়িতে একাধিক ছোট-বড় ধস নেমেছে। শনিবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে রেকর্ড বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় লাল সতর্কতা (রেড অ্যালার্ট) জারি করেছে হাওয়া অফিস। এর ফলে পাহাড়ি নদীগুলোর জলস্তর মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার এবং নতুন করে ধস নামার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।